ইরান যুদ্ধে জ্বালানি সংকট ধুঁকছে গোটা বিশ্ব। এই অবস্থায় আগেই রাশিয়া থেকে তেল কেনায় 'ছাড়' দিয়েছিল আমেরিকা। নতুন করে ইরানের তেলের উপর চাপানো নিষেধাজ্ঞা আংশিক ভাবে তুলে নিল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি থেকে তেল কিনতে চলেছে ভারতের একাধিক সংস্থা।
ইতিমধ্যে দেশের তিনটি জ্বালানি তেলের সংস্থা ইরানের তেল কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গোটা প্রক্রিয়ার জন্য ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের পরামর্শ নিচ্ছে তারা। উল্লেখ্য, এশিয়ার তেল আমদানিকারক দেশগুলির মধ্যে ভারতে অপরিশোধিত তেলের মজুত অনেকটাই কম। মাঝে আমেরিকা সাময়িকভাবে রুশ তেল কেনায় ছাড় দেওয়ার পর একাধিক সংস্থা মস্কো থেকে তেল কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল। এবার ইরানের তেল কেনার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ওঠায় সুবিধা নিতে আগ্রহী সংস্থাগুলি। যদিও গোটা বিষয়টিতে এখনও পর্যন্ত সরাকরি সূত্রে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট এবং দাম বৃদ্ধির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা প্রশমিত করতেই ইরানের তেল কেনায় ছাড় দেওয়া হয়েছে। স্পষ্ট করেছেন মার্কিন অর্থ সচিব স্কট বেসেন্ট। রুশ তেলের মতোই এই ছাড় দেওয়া হয়েছে ৩০ দিনের জন্য। শুধুমাত্র সমুদ্রপথেই ইরানের তেল কেনা যাবে বলেও জানানো হয়েছে। মার্কিন অর্থ সচিব আরও জানান, বর্তমানে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানের তেল সস্তায় কিনে মজুত করছে চিন। সেই শৃঙ্খল ভাঙতেই এই উদ্যোগ।
বেসেন্টের দাবি করেছেন, বিশ্বের জ্বালানির বাজারে তৈরি হওয়া সংকট দূর করতে বদ্ধপরিকর আমেরিকা। সেই কারণে নানা পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ৪৪ কোটি ব্যারেল অতিরিক্ত তেল বিশ্ব বাজারে আনার বন্দোবস্ত করেছে। মার্কিন অর্থ সচিব স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, আমেরিকার এই ছাড়ের ফলে বিশ্ব বাজারে প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল আসবে, যা জ্বালানি সরবরাহের উপর চাপ কমাতে সাহায্য করবে।
