শুল্কের খাঁড়া হাতে বিশ্বজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর খামখেয়ালিপনার জেরে ভারত তো বটেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন এমনকী ন্যাটোর সঙ্গেও সংঘাত শুরু হয়েছে আমেরিকার। এহেন পরিস্থিতিতেই মার্কিন নির্ভরতা কাটিয়ে কাছাকাছি এল ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)। ভারত সফরে আসছেন ইইউ প্রধান উরসুলা ভন। সেই সফরের আগেই ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে বড় বার্তা দিলেন উরসুলা।
জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আগামী ২৫ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতে আসবেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্তোনিও কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন। সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন তাঁরা। তার পরের দিন অর্থাৎ ২৭ জানুয়ারি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি একেবারে চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলেই আশাবাদী ওয়াকিবহাল মহল। এপ্রসঙ্গেই মঙ্গলবার দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে এক বক্তৃতায় ইইউ প্রধান উরসুলা ভন বলেন, ''ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সাক্ষরের একেবারে দোরগোড়ায়। যদিও কিছু কাজ এখনও বাকি রয়েছে। এই চুক্তি সকল চুক্তির সেরা (Mother Of All Deals)।''
উরসুলা ভন আরও জানান, "ভারতের সঙ্গে আমাদের এই চুক্তি ২ বিলিয়ন মানুষের এক বিরাট বাজার তৈরি করবে। যা হয়ে উঠবে বিশ্বব্যাপী জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশ।" এদিকে এই চুক্তি প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। ২৪টি অধ্যায়ের মধ্যে ২০টি অধ্যায় নিয়ে ইতিমধ্যেই দু’পক্ষ সহমত হয়েছে। বাকি অংশ নিয়ে আগামী কয়েকদিনে লাগাতার আলোচনা হবে। সম্প্রতি ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তরে গিয়েছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও। তবে এখনও চুক্তির সমস্ত শর্তাবলি চূড়ান্ত হয়নি। সেকারণেই সরকারিভাবে চুক্তি ঘোষণা করা যাচ্ছে না। তবে আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে এই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে পাকাপাকি সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে বলেই মনে করছে কেন্দ্র।
কৃষিক্ষেত্র সংক্রান্ত বিষয়গুলি এই চুক্তিতে থাকছে না বলেই জানা গিয়েছে। তবে উৎপাদন, প্রযুক্তি, শক্তিসম্পদ, ওষুধের মতো ক্ষেত্রগুলিকে চুক্তির আওতায় আনা হতে পারে। উল্লেখ্য, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না হওয়া এবং তারপর বিরাট শুল্কবাণ আছড়ে পড়া-দুইয়ে মিলে বেশ ধাক্কা খেয়েছে ভারতের বাজার। সেই লোকসান সামাল দিতে বিকল্প বাজারের সন্ধান করছে ভারত। ইউরোপের দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্যের মাধ্যমে লোকসান কমানো যেতে পারে বলেই অনুমান করছে কেন্দ্র। উল্লেখ্য, ২০০৭ থেকে এই চুক্তি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের আলোচনা চলছে। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না হওয়া এবং তারপর বিরাট শুল্কবাণ আছড়ে পড়া-দুইয়ে মিলে বেশ ধাক্কা খেয়েছে ভারতের বাজার। সেই লোকসান সামাল দিতে বিকল্প বাজারের সন্ধান করছে ভারত।
