ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। কূটনৈতিক কার্যকলাপ শেষ হওয়ার পরে ইইউ প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয় রাষ্ট্রপতি ভবনে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু নিজেই স্বাগত জানান ইউরোপীয় ইউনিয়নের অতিথিদের। তাঁদের পাতে পড়ল খাঁটি ভারতীয় খানা। সেই মেনুকার্ডের ছবি ভাইরাল হতেই নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বর্তমানে বিদেশি অতিথিদের জন্য ভারতীয় নিরামিষ খাবার পরিবেশনের প্রথা রয়েছে। সেই প্রথামাফিকই সাজানো হয়েছিল রাষ্ট্রপতি ভবনের খাদ্যতালিকা। ভারতীয় খাবারের ঐতিহ্যের ছোঁয়া লেগে থাকা খাবার অতিথিদের প্লেটে তুলে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল দুই শেফ প্রতীক সাধু এবং কমলেশ নেগির হাতে। তাঁরা হিমাচল প্রদেশে কর্মরত। জন্মভূমি হিমাচল ছাড়াও কাশ্মীর, লাদাখ, উত্তরাখণ্ড এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের স্থানীয় খাবার পরিবেশন করেছিলেন তাঁরা।
প্রথমেই অতিথিদের পাতে পড়েছিল উত্তরাখণ্ডের জাখিয়া আলু, সঙ্গে মিলেট পায়েস। মেন কোর্সে ছিল উত্তরাখণ্ডের নুডল স্যুপ, সুন্দরকালা থিচোনি। টমেটো এবং অন্যান্য সবজি দেওয়া স্যুপের মধ্যে আটার তৈরি নুডল দিয়ে তৈরি হয় এই পদ। এই স্যুপের সঙ্গে ছিল মাঠরি, চিজ কাসটার্ড, লাউ এবং গাজরের কঢ়ি। এছাড়াও পোস্ত-টমেটোর মধ্যে কাশ্মীরি গুচি এবং সোলান মাশরুম ছিল মেনুতে, সঙ্গে হিমাচলের স্বরনু ভাত। ছিল তিন রকমের চাটনিও। মিষ্টির মধ্যে ছিল কাশ্মীরি আপেল কেক। অসম থেকে আনা কফি বিন দিয়ে তৈরি কাসটার্ডও ছিল মেনুতে।
প্রসঙ্গত, ২০০৭ থেকে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে। দীর্ঘ ১৮ বছরের চেষ্টার পর অবশেষে মঙ্গলবার বাস্তবায়িত হয়েছে ঐতিহাসিক এই চুক্তি। যাকে ‘মাদার অফ অল ডিলস’ আখ্যা দিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন। মঙ্গলবার সেই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তারপর ভারতীয় ভোজ খেতে খাঁটি ভারতীয় পোশাকেই সেজেছিলেন উরসুলা। বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার আনন্দে রাষ্ট্রপতি ভবনে আমন্ত্রিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, শিল্পপতি আকাশ আম্বানিরাও। অতিথিদের জন্য বিশেষ বার্তা দেন রাষ্ট্রপতি নিজেও।
