সংসদে বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন শুরু হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণের মাধ্যমে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন লোকসভায় ভারতের ২০২৫-২০২৬ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ করেন। অর্থ মন্ত্রকের এই সমীক্ষা নথিটি ২০২৫-২৬ (এপ্রিল-মার্চ) এর জন্য অর্থনীতির অবস্থা এবং বিভিন্ন সূচক সম্পর্কে গুরুত্বপুর্ণ তথ্য দেয়। পাশাপাশি পরবর্তী অর্থবর্ষের জন্য একটি দৃষ্টিভঙ্গি দেয়।
বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের শুরুতে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির প্রশংসা করেন এবং একে 'যুবকদের প্রতীক' বলে অভিহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বর্তমান যুগের তাৎপর্য তুলে ধরেন। একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় কোয়ার্টার শুরু হচ্ছে এবং শুরু হচ্ছে ২০৪৭ সালের মধ্যে 'বিকশিত ভারত'-এর দিকে যাত্রা। তিনি অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের ঐতিহাসিক সাফল্যের প্রশংসা করে বলেন, 'নির্মলাজি হলেন প্রথম মহিলা অর্থমন্ত্রী যিনি টানা নবমবার দেশের সংসদে বাজেট উপস্থাপন করতে চলেছেন।' প্রধানমন্ত্রী মোদী 'সংস্কার, পারফর্ম এবং ট্রান্সফর্ম' মন্ত্রের উপর জোর দিয়ে বলেন, ভারত এখন 'সংস্কার এক্সপ্রেস'-এ চড়েছে। তিনি বিশেষভাবে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে 'সকল চুক্তির জননী' হিসেবে উল্লেখ করেন। ভারতীয় নির্মাতাদের জন্য এই চুক্তি এক বিশাল বাজার উন্মুক্ত করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, বিশ্বের হৃদয় জয়ের জন্য পণ্যের গুণমানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার ভারতের অর্থনীতির শক্তিশালী বৃদ্ধির কথা তুলে ধরেন। বর্তমান ত্রৈমাসিকের শুরুকে 'অত্যন্ত ইতিবাচক' বলে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। আত্মবিশ্বাসী ভারতকে 'আজ বিশ্বের জন্য আশার আলো' হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে কংগ্রেস বলেছে, তিনি প্রতিটি অধিবেশন শুরুর আগে দেশের কাছে নিজের 'স্বাভাবিক ভণ্ডামিপূর্ণ বার্তা' পৌঁছে দেন এবং 'আজকের পারফরম্যান্স এই ধারাবাহিকতারই অংশ'। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক, ইনচার্জ জয়রাম রমেশ বলেন, 'জাতীয় ইস্যুতে বিরোধীদের আস্থায় পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী সর্বদলীয় সভা আহ্বান করেন না এবং সেই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন না। তিনি হঠাৎ করেই শেষ মুহূর্তে বিল পেশ করাবেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত যাচাই ছাড়াই সংসদে বিল পেশ করবেন।' রমেশ দাবি করেন, মোদি সংসদে বসে বিরোধী নেতাদের উদ্বেগের জবাব দেন না, বরং উভয় কক্ষেই নির্বাচনী বক্তৃতা দেন।
