আচমকা মৃত্যু হয়েছে স্বামীর। কিন্তু জীবনসঙ্গীকে হারানোর যন্ত্রণা সামলেই দলের হাল ধরতে পারেন স্ত্রী। সূত্রের খবর, অজিত পওয়ারের জায়গা নেওয়ার জন্য তাঁর স্ত্রী সুনেত্রাকেই মনোনীত করতে পারে এনসিপি। বর্তমানে রাজ্যসভার সাংসদ সুনেত্রা। কিন্তু অজিতের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীকেই মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বসানো হবে বলেই এনসিপি সূত্রের খবর। সেই নিয়ে ইতিমধ্যেই একপ্রস্থ আলোচনাও হয়ে গিয়েছে।
বুধবার সকালে বিমান ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয় অজিতের। তাঁর প্রয়াণে এনসিপি অভিভাবকহীন হয়ে পড়বে বলে মনে করছিল রাজনৈতিক মহল। কিন্তু অজিতের প্রয়াণের কয়েকঘণ্টার মধ্যেই দলীয় ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করে দেয় এনসিপি। সূত্রের খবর, এনসিপির ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট প্রফুল প্যাটেল এবং দলের অন্যান্য নেতারা বুধবারই আলাদা করে কথা বলেন সুনেত্রার সঙ্গে। অন্যদিকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা নরহরি জারওয়াল বলেন, আমজনতা চায় যেন সুনেত্রা রাজ্যের মন্ত্রিসভায় পা রাখেন।
আপাতত এনসিপি চাইছে পওয়ারদের গড় বারামতি থেকে সুনেত্রাকে প্রার্থী করতে। ওই বারামতি থেকেই সাতবার বিধায়ক হয়েছিলেন অজিত। জীবনের শেষ মুহূর্তেও তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বারামতি। সেখান থেকে সুনেত্রাকে বিধায়ক করে তাঁকেই উপমুখ্যমন্ত্রী করাটা আপাতত এনসিপির লক্ষ্য। সেই নিয়ে আগামী দিনে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন প্রফুলরা। তবে শরদ পওয়ারের সঙ্গে 'রিইউনিয়ন' নিয়ে আপাতত ভাবিত নয় এনসিপি।
সুনেত্রাকে বিধায়ক করে তাঁকেই উপমুখ্যমন্ত্রী করাটা আপাতত এনসিপির লক্ষ্য। তবে শরদ পওয়ারের সঙ্গে 'রিইউনিয়ন' নিয়ে আপাতত ভাবিত নয় এনসিপি।
উল্লেখ্য, যে কোনও আঞ্চলিক দলের জন্যই প্রতিষ্ঠাতা বা তাঁর স্পষ্ট উত্তরাধিকারী থাকাটা জরুরি। সেটা না হলে আঞ্চলিক দলের পক্ষে অস্তিত্ব বাঁচানো কঠিন হয়ে যায়। অতীতে বহু রাজনৈতিক দলের অবলুপ্তি বা অবক্ষয়, এই তত্ত্বই প্রতিষ্ঠিত করে। অজিতের মৃত্যুর পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে এনসিপির অস্তিত্ব বাঁচানো যাবে তো? কারণ মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত অজিত ছিলেন রাজনীতির মধ্যগগনে। কাকা শরদ পওয়ারের ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে সবে স্বতন্ত্র রাজনীতিবিদ হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছিলেন। কিন্তু উত্তরসূরি বেছে দেওয়ার সময়টুকু তিনি পাননি। সেকারণেই অজিতের স্ত্রীর ভরসায় আপাতত টিকে থাকার যুদ্ধে নামবে এনসিপি।
