৮০ বছরের 'বৃদ্ধ' রাষ্ট্রসংঘকে খোলনলচে বদলে ফেলার দাবি তুলল ভারত। ভেটো ক্ষমতাকে ৫টি দেশের কুক্ষিগত না করে তা বাড়ানোর দাবিতে সরব হলেন ভারতের রাষ্ট্রদূত পি হরিশ। তাঁর দাবি, রাষ্ট্রসংঘে সংস্কার হোক তবে ভেটো ক্ষমতা সম্পন্ন স্থায়ী সদস্যের সংখ্যা বৃদ্ধি না করে তা করলে এই সংস্থার অভ্যন্তরে ভারসাম্যহীনতা ও বৈষম্য বাড়বে।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রসংঘে নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার বিষয়ক আন্তঃসরকার আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পি হরিশ বলেন, ভেটো ক্ষমতার পরিসর না বাড়িয়ে নতুন কোনও বিভাগ বিবেচনা করা হলে আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠবে। রাষ্ট্রদূত বলেন, সদস্যপদ ও ভেটো ক্ষমতা এই দুটি বিষয়ের পরিধি বাড়ানো ছাড়া নয়া পরিষদ গঠন ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে এবং এর বৈধতা ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। হরিশ আরও বলেন, "এটা ঠিক যে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। ৮০ বছরের আগে প্রতিষ্ঠিত এই কাঠামো আজকের পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ১৯৬০-এর দশকে পরিষদের সংস্কারে কেবল অস্থায়ী বিভাগটির সম্প্রসারণ করে ভেটো প্রদানকারী দেশগুলোর ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়। সেটাই ছিল একমাত্র পরিবর্তন।"
রাষ্ট্রদূত বলেন, সদস্যপদ ও ভেটো ক্ষমতা এই দুটি বিষয়ের পরিধি বাড়ানো ছাড়া নয়া পরিষদ গঠন ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে এবং এর বৈধতা ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
ভারতের বয়ান অনুযায়ী, অতীতে ভেটো ক্ষমতা সম্পন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্যদের অনুপাত ছিল ৫:৬। যা পরে পরিবর্তন করে ৫:১০ করা হয়। এর ফলে ভেটো ক্ষমতা সম্পন্ন দেশগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পেয়েছিল। যার বিপুল অপব্যবহারের কথাও এদিন তুলে ধরেন হরিশ। বলেন, "অতীতে এমন নজির রয়েছে যেখানে নির্বাচিত সদস্যরা শুধুমাত্র নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থে ভেটো ব্যবহার করে বাধা সৃষ্টি করেছে।" এই অবস্থার বদলের পক্ষে ও ভেটোর পরিধি বাড়ানোর পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন ভারতের রাষ্ট্রদূত।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রসংঘে বর্তমানে ভেটো প্রদানের ক্ষমতা রয়েছে মাত্র ৫টি দেশের। এরা হল, আমেরিকা, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও চিন। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য দেশ ভারত। এখানে স্থায়ী সদস্য পদ পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে এসেছে ভারত। শুধু তাই নয়, কয়েক দশক ধরে স্থায়ী ও অস্থায়ী উভয় বিভাগের সম্প্রসারণ ও সংস্কারের দাবি রেখেছে দিল্লি। ভারতের মতে, ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ১৫-সদস্যের এই পরিষদ একবিংশ শতাব্দীর জন্য অনুপযুক্ত এবং এটি সমসাময়িক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না।
