পঞ্চায়েত ওয়েব সিরিজের তৃতীয় সিজন মুক্তি পাবে আগামী ২৮ মে। ফলে ফের শিরোনামে ফুলেরা গ্রাম। এই গ্রামকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে ‘পঞ্চায়েত’ ওয়েব সিরিজের গল্প। মধ্যপ্রদেশের সিহোর জেলার এই ‘গ্রাম পঞ্চায়েত’ যখন লোকের মুখে মুখে, তখন এই বিজেপি শাসিত রাজ্যেই বাস্তবের পঞ্চায়েতে অন্য ছবি। যা ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। কারণ, মধ্যপ্রদেশের এক গ্রামে ‘লাভ ম্যারেজ’ করলেই গোটা পরিবারকে বয়কট করার নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপি শাসিত পঞ্চায়েতের মাতব্বররা!
জানা গিয়েছে, নিজের পছন্দে বিয়ে করার অপরাধে গোটা পরিবারকে একঘরে করে দেওয়ার নিদান দিয়েছে মধ্যপ্রদেশের রতলাম জেলার পাঞ্চেওয়া গ্রাম। এই ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে নির্দিষ্ট করে তিনটি পরিবারের প্রধানের নাম নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে গ্রামবাসীরা উদ্বিগ্ন। যেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রকাশ্য সভায় রীতিমতো ঘোষণা করে কয়েকটি পরিবারের উপর সামাজিক ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। এতে মদত জুগিয়েছেন গ্রাম পঞ্চায়েতের নেতারা। কোনও তরুণ-তরুণী পালিয়ে গিয়ে বা ভালোবেসে বিয়ে করলে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে আর কেউ যোগাযোগ রাখতে পারবে না। বন্ধ করে দেওয়া হবে দুধ-সহ সমস্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের জোগান।
শুধু তাই নয়, ওই পরিবারের কেউ মজুর হিসাবে কাজ পাবেন না, আবার তাঁদের জমিতেও কেউ কাজ করতে পারবেন না। এমনকী, ওই পরিবারগুলিকে কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসডিপিও সন্দীপ মালব্য বলেছেন যে, অভিযোগ দায়ের করা হলে আইন অনুসারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি গ্রামবাসীদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে এই ধরনের আদেশ জারি করার কোনও আইনি ভিত্তি নেই।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রশাসনের কর্তারা ইতিমধ্যেই গ্রামে গিয়ে সাধারণ মানুষকে বুঝিয়েছেন যে, এই ধরনের বয়কট সম্পূর্ণ বেআইনি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
