shono
Advertisement
FCRA Bill

'নাক গলাবেন না', বিদেশি অনুদান বিলে আমেরিকার আপত্তি ফুৎকারে ওড়াল ভারত

গত ২৫ মার্চ লোকসভায় পেশ হয় ফরেন‌ কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন সংশোধনী বিল ২০২৬। প্রস্তাবিত বিলে বলা আছে, কেন্দ্র চাইলে সব সংস্থাকে বিদেশি অনুদান থেকে প্রাপ্ত টাকা খরচ করার সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে। এছাড়াও কোনও সংস্থা যদি বিদেশি অনুদানের লাইসেন্স নবীকরণের আবেদন না করে, বা সরকার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাহলে ওই সংস্থার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
Published By: Subhodeep MullickPosted: 02:47 PM Aug 08, 2026Updated: 04:36 PM Aug 08, 2026

ফরেন‌ কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন সংশোধনী বিল (এফসিআরএ) (FCRA Bill) নিয়ে সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অবনতির হুঁশিয়ারি দিয়েছিল আমেরিকা (India-US Relations)। বিষয়টি নিয়ে এবার ওয়াশিংটনকে কড়া জবাব দিল নয়াদিল্লি। বিদেশমন্ত্রক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, প্রস্তাবিত বিলটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমেরিকাও তাদের দেশে আসা বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ করে।

Advertisement

গত ২৫ মার্চ লোকসভায় পেশ হয় ফরেন‌ কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন সংশোধনী বিল ২০২৬। প্রস্তাবিত বিলে বলা আছে, কেন্দ্র চাইলে সব সংস্থাকে বিদেশি অনুদান থেকে প্রাপ্ত টাকা খরচ করার সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে। এছাড়াও কোনও সংস্থা যদি বিদেশি অনুদানের লাইসেন্স নবীকরণের আবেদন না করে, বা সরকার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাহলে ওই সংস্থার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।

আসলে এফসিআরএ লাইসেন্স ব্যবহার করেই বিদেশ থেকে অনুদান নেয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি। তবে কেন্দ্রের সবুজ সংকেত ছাড়া বিদেশি অনুদান গ্রহণ করা যায় না। ২০১০ সালের ফরেন কনট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্টের আওতায় রেজিস্ট্রেশন করতে হয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে। প্রতি বছর ওই বিদেশি অনুদান পাওয়ার লাইসেন্স যাচাই করা হয়। প্রতি বছর কোনও না কোনও সংস্থার লাইসেন্স বাতিলও করা হয়। নতুন বিল অনুযায়ী, কারও লাইসেন্স বাতিল হলে ওই সংস্থা আগে যা অনুদান পেয়েছে সবটাই সরকারের খাতায় চলে যাবে।

ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের বক্তব্য, বিদেশ থেকে আসা অনুদান শুধুই সমাজসেবামূলক কাজের জন্য ব্যবহৃিত হয় না। কোনও কোনও ক্ষেত্রে তার সঙ্গে বৃহত্তর রাজনৈতিক অভিসন্ধি থাকে। ভারতের এফসিআরএ কাঠামোর মূল যুক্তিই হল, বিদেশি অর্থ যেন দেশের সার্বভৌমত্ব বা নিরাপত্তার উপর বিরূপ প্রভাব না ফেলে। সরকার স্পষ্ট করেছে, এফসিআরএ বিল সংশোধনের লক্ষ্য বিদেশি অনুদান বন্ধ করা নয়, বরং তার ব্যবহার, হিসাব এবং নজরদারি আরও স্বচ্ছ করা।

এখানেই ‘ডিপস্টেট’-এর প্রসঙ্গ সামনে আসছে। অতীতে দেখা গিয়েছে, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির মাধ্যমে আসা বিদেশি অর্থ জেন জি'দের উসকানি এবং সর্বশেষে সরকার ফেলার ষড়যন্ত্রে ব্যবহৃিত হয়। ভারতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনও ‘ডিপস্টেট ছক’-এর প্রমাণ না মিললেও সম্ভাব্য ঝুঁকি বা আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষত, দেশে 'ককরোচ' আন্দোলনের পর থেকে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ভারতের যুক্তি, দেশে প্রবেশ করা বিদেশি অর্থ কোথায় খরচ হবে এবং তার উপর কী ধরনের নজরদারি চলবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নয়াদিল্লিরই।বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, "এফসিআরএ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য আমরা দেখেছি। গোটাটাই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এগুলির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয় সংসদ। আমেরিকা-সহ এমন অনেক দেশ রয়েছে, যারা বিদেশি অনুদানের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখে। 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement