জীবিত থাকাকালীনই পদ্মভূষণ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। চার বছর পর তাঁর দেখানো পথেই হাঁটল কেরলের প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভি এস অচ্যুতানন্দনের পরিবার। অচ্যুতানন্দনের পুত্র ঘোষণা করেছেন, মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ পুরস্কার তারা গ্রহণ করবেন না। দলের অবস্থানকে সম্মান জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুদ্ধদেব এবং অচ্যুতানন্দন দু’জনেই ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। একজন বাংলার। অপরজন কেরলের। শুধু তা-ই নয়, দুই নেতাই সিপিএমের ‘একনিষ্ঠ সৈনিক’ বলেও পরিচিত ছিলেন। জীবিত অবস্থাতেই পদ্মভূষণ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন বুদ্ধদেব। তবে অচ্যুতানন্দনের মনোনয়ন মরণোত্তর। অসুস্থ থাকাকালীনই বাংলার প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পদ্মভূষণ পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে এক্ষেত্রে অচ্যুতানন্দনের পরিবার পদ্ম সম্মানে ‘না’ জানাল।
বস্তুত, রাষ্ট্রের দেওয়া সম্মান বা পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করাটাই বামপন্থীদের রীতি। তা-ও আবার ‘সাম্প্রদায়িক’ বিজেপি ক্ষমতায় থাকলে তো নৈব নৈব চ। তবে প্রাথমিকভাবে জল্পনা ছড়িয়েছিল, বাম রীতি অমান্য করেই পদ্মবিভূষণ পুরস্কার গ্রহণ করছে অচ্যুতানন্দনের পরিবার। কিন্তু শেষমেষ তারা সিদ্ধান্ত বদল করল। এর নেপথ্যে কি তাহলে রয়েছে দলীয় ‘চাপ’? কেন পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করতে এতদিন সময় লেগে গেল? এই প্রশ্নগুলিই এখন উঠতে শুরু করেছে।
প্রাথমিকভাবে জল্পনা ছড়িয়েছিল, বাম রীতি অমান্য করেই পদ্মবিভূষণ পুরস্কার গ্রহণ করছে অচ্যুতানন্দনের পরিবার। কিন্তু শেষমেষ তারা সিদ্ধান্ত বদল করল।
অচ্যুতানন্দনের পুত্র ভিএ অরুণ কুমার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে জানান, বাবা সর্বদা কেরলের জনগণের পাশে থেকেছেন। পুরস্কারের জন্য তাঁকে মনোনীত করা সম্মানের। বাবা চিরকাল দলের অনুশাসন মেনে চলেছেন। তাই দলের অবস্থানকে সম্মান জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, অতীতে রাষ্ট্রপ্রদত্ত ‘ভারতরত্ন’ ফিরিয়েছিলেন জ্যোতি বসু। তিনি সরাসরি জানিয়েছিলেন, তাঁরা রত্ন পাওয়ার জন্য কাজ করেন না।
