২০ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে ৩০ বছর ধরে জেলও খেটেছেন। কিন্তু সম্প্রতি তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করেছে আদালত। সেই কলঙ্কমুক্তির পরদিনই প্রাণ গেল গুজরাটের প্রৌঢ়ের!
গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাবুভাই প্রজাপতি নামে ওই ব্যক্তিকে ঘুষের মামলা থেকে মুক্তি দেয় গুজরাট হাই কোর্ট। উচ্চ আদালতের ওই রায়ের পরেই প্রৌঢ় বলেছিলেন, "কলঙ্ক মুছে গিয়েছে। এখন যদি ঈশ্বর আমায় নিয়ে যান, তাহলেও আমার আর কোনও দুঃখ থাকবে না।" কাকতালীয় ভাবে ঘটলও তা-ই। যদিও বাবুভাইয়ের মৃত্যুতে কোনও অস্বাভাবিকতা ছিল না বলেই জানিয়েছে তাঁর পরিবার।
আহমেদাবাদ পুলিশের কনস্টেবল ছিলেন বাবুভাই। সেই সময় তাঁর বিরুদ্ধে ২০ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। নিম্ন আদালতে চার্জশিট জমা পড়েছিল ১৯৯৭ সালে। ২০০২ সালে চার্জগঠন হয়। এর পর ২০০৪ সালে বাবুভাইকে দোষী সাব্যস্ত করে নিম্ন আদালত। চার বছরের কারাদণ্ড হয় তাঁর। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বাবুভাই। সেখানেই ২২ বছর ধরে তাঁর মামলা ঝুলে ছিল।
হাই কোর্ট তাদের রায়ে জানিয়েছে, সাক্ষীদের বয়ানে বড়সড় অসঙ্গতি ছিল। বাবুভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন বাদী পক্ষের আইনজীবীরা। বাবুভাইয়ের আইনজীবী নিতিন গান্ধীর বক্তব্য, গোটা মামলাটাই দাঁড়িয়েছিল সন্দেহের উপর ভিত্তি করে। নিতিন বলেন, "ওঁর সরকারের থেকে অনেক সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল। সেটার জন্য উনি যাতে আবেদন করেন, সেটা বলতেই ফোন করেছিলাম। তখনই জানলাম ওঁর মৃত্যু হয়েছে।"
