আমেরিকার কুখ্যাত এপস্টেইন ফাইলে প্রকাশ্যে মাইক্রোসফট কর্তা বিল গেটসের যৌন কেচ্ছা। সদ্য প্রকাশিত রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ান মহিলাদের যৌন সঙ্গমের জেরে গুরুতর যৌনরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এই ধনকুবের। এমনকী অধঃস্তন কর্মীকে দিয়ে ওষুধ আনিয়ে তা গোপনে স্ত্রীকে খাওয়ানোর চেষ্টা করেছিলেন গেটস। এহেন তথ্য সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও গেটসের মুখপাত্রের তরফে জানানো হয়েছে, এই তথ্য 'সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন'।
গত শুক্রবার আমেরিকার বিচার বিভাগের তরফে এপস্টেইন সংক্রান্ত ৩৫ লক্ষ পাতার একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রকাশ করা হয়েছে অন্তত দু’হাজারটি ভিডিও এবং ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি। যার ছত্রে ছত্রে রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প, এলন মাস্ক, বিল গেটসের মতো ধনকুবেরদের কেচ্ছা। প্রকাশিত এই ফাইলেই রয়েছে বেশ কিছু ইমেল। যেগুলি এপস্টেইন নিজেই নিজেকে পাঠিয়েছিলেন। সেই ইমেল অনুযায়ী, রুশ মহিলাদের শয্যসঙ্গী হতে চেয়েছিলেন বিল গেটস। তাঁর সেই অনুরোধে যাবতীয় ব্যবস্থা করে দেন এপস্টিন। এই ঘটনায় যৌনরোগে আক্রান্ত হন গেটস। শুধু তাই নয়, আক্রান্ত হওয়ার পর স্ত্রী মিলিন্ডা গেটসকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াতে চেয়েছিলেন বিল গেটস।
পাশাপাশি সেই সময় গেটস দম্পতির সাংসারিক অশান্তিতেও জড়িয়ে পড়েন এপস্টেইন। এমনকী সেই অশান্তি ডিভোর্সের পথেও এগিয়েছিল। ইমেলে আরও দাবি করা হয়েছে, এপস্টিনের কাছে নাকি গেটস অনুরোধ করেছিলেন, তাঁর পুরুষাঙ্গের বর্ণনা দেওয়া ইমেলগুলি এপস্টেইন যেন মুছে দেন। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে গেটসের মুখপাত্রের দাবি, এই সমস্ত দাবি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। গেটসের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করতে না-পারায় হতাশা থেকে এই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন এপস্টেইন ।
অবশ্য গেটসের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ প্রথম নয়, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছিল, ২০১৭ সালে গেটসকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল এপস্টেইনের বিরুদ্ধে। গেটসের সঙ্গে রাশিয়ার ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আন্তোনোভারে অবৈধ সম্পর্কের কথা ফাঁস করে দেবেন বলে হুমকি দিয়েছিল এপস্টেইন । উল্লেখ্য, এপস্টিন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর জেলে আত্মঘাতী হন ২০১৯ সালে। তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকা তথা সঙ্গিনী ম্যাক্সওয়েল এখনও জেলে। শিশু পাচার এবং এপস্টেইনের যৌন অপরাধের মামলায় তিনিও দোষী সাব্যস্ত।
