ভোটের আগে পুরুলিয়া শহরের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ! কংগ্রেস ছেড়ে মান-অভিমান ভুলে আবার 'ঘরে' ফিরলেন পুরুলিয়ার প্রাক্তন পুরপ্রধান শামিম দাদ খান। সেইসঙ্গে তাঁর ছেলে প্রাক্তন কাউন্সিলর সোহেল দাদ খান-সহ দলবল। রাজ্য তৃণমূলের অনুমোদনক্রমে শনিবার সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইঞার উপস্থিতিতে পুরুলিয়া শহরের দুলমি এলাকায় জেলা তৃণমূল কার্যালয়ে ওই বাবা-ছেলে আবার তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা ধরলেন। এদিন তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন মানস ভুঁইঞা-সহ পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা বান্দোয়ানের বিধায়ক রাজীবলোচন সোরেন ও পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান তথা রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক শান্তিরাম মাহাতো।
মন্ত্রী মানস ভুঁইঞা বলেন, "ধর্মের নামে ভোট বাটোয়ারা করা যাবে না, বিজেপি যা করতে চাইছে। বিভেদমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে আমাদের এই যোগদান। ভারতবর্ষ মানে ধর্ম নিরপেক্ষতা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি, মিলন মঞ্চ। তাই শামিম দাদ খান ও তাঁর ছেলে সোহেল দাদ খান কংগ্রেস ছেড়ে আবার তৃণমূলে ফিরলেন।" তবে তাঁদের 'ঘর ওয়াপসি' যোগদানকে মেনে নিতে পারেননি পুরুলিয়া পুরসভার বোর্ড ভেঙে যাওয়া শাসকদলের প্রাক্তন কাউন্সিলররা। তাঁরা এই যোগদানের বিরুদ্ধে এদিন বিকালে এমএসএ ময়দানে প্রতিবাদ বৈঠক করেন। সেই বৈঠক থেকে রীতিমত হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়, তাঁরা ওই যোগদানের বিরুদ্ধে। এবার তাঁরাও আলাদা ভাবনাচিন্তা করবেন।
যোগদানকারীদের বুকে টেনে অভিনন্দন জানালেন মানস ভুঁইঞা। ছবি: দীপক রাম।
শামিম দাদ খান পুরুলিয়া পুরসভার মোট ৬ বারের কাউন্সিলর। ওই কাউন্সিলর থাকাকালীন তিনি একবার পুরপ্রধান ও দু'বার উপ পুরপ্রধান হন। একবার প্রশাসকেরও পদ পান। তাঁর ছেলে সোহেল দাদ খানও কাউন্সিলর ছিলেন। ২০২২ সালের পুর ভোটে শামিম দাদ খান ও তাঁর ছেলে সোহেল দাদ খান তৃণমূলের টিকিট না পাওয়ায় কংগ্রেসে যোগ দেন। তাঁরা কংগ্রেস থেকে পুর ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেন। কিন্তু জিততে পারেননি। এদিন তৃণমূলের পতাকা হাতে নিয়ে শামিম দাদ খান বলেন, "আমি অভিমানে ঘর ছেড়েছিলাম। এখন আর কোনও অভিমান নেই। তাই ঘরে ফিরেছি। তৃণমূলকে তো ভুলতে পারব না। তৃণমূল আমাকে পুরপ্রধান করেছিল। আমাদের সমাজের জন্য যা কাজ করেছে তা ভোলার নয়। পুরুলিয়া বিধানসভায় তৃণমূলকে জেতাতে আমি সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করব। "
এই যোগদানের বিরোধিতা করা পুরুলিয়া শহরের তৃণমূল নেতা ফইজাল কামাল শাহী বলেন, "এই কয়েকদিন আগে পর্যন্ত ওই বাবা-ছেলে তৃণমূল সম্বন্ধে কুৎসা করে গিয়েছেন। আর তাঁদেরকেই দলে নেওয়া হল! রাজ্য নেতৃত্ব কী ভাবছে আমি জানি না। তবে আমরা এই যোগদানের বিরুদ্ধে। এবার আমরা আলাদাভাবে চিন্তাভাবনা করব।" এই যোগদানকে ঘিরে যে প্রাক্তন কাউন্সিলররা বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন, এ বিষয়ে পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল সভাপতি রাজীবলোচন সোরেনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "বিষয়টি আমার জানা নেই। কি হয়েছে খোঁজ নেব।" এদিকে এই যোগদানকে ঘিরে কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া নিতে পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেস তথা প্রাক্তন বিধায়ক নেপাল মাহাতোকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কোনও সাড়া দেননি।
