আবগারি মামলায় দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল-সহ ২৩ জনকে অব্যাহতি দিয়েছিল নিম্ন আদালত। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল সিবিআই। বৃহস্পতিবার ছিল মামলার শুনানি। আর সেই সময়ই উচ্চ আদালত পরিষ্কার করে দেয়, বিষয়টি এখন আর কেবল আইনি যুক্তিতর্কের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা আদালতের মর্যাদা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গেও অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে পড়েছে। এদিন বিচারপতি স্বর্ণকান্তা শর্মার বেঞ্চে শুনানি চলাকালীন জানান, তাঁর সম্পর্কে ‘অত্যন্ত কুৎসামূলক, চরম অবমাননাকর ও মানহানিকর’ বিষয়বস্তু প্রকাশ করছেন বিবাদীরা। যা আসলে বিচারব্যবস্থার উপরে আক্রমণের শামিল।
তিনি জানান, ''এই বিষয়ে আমি নীরব থাকতে পারি না।'' বিচারপতি আরও জানান যে, আবগারি নীতি সংক্রান্ত মামলার শুনানি এবার অন্য একটি বেঞ্চে হবে। তিনি অবমাননা মামলার কার্যক্রম শুরু করবেন। মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে তিনি তাঁর আদেশ প্রত্যাহার করবেন না। তবে যেহেতু তিনি অবমাননা মামলার কার্যক্রম শুরু করেছেন, তাই এই বিষয়টি অন্য কোনও বিচারকের কাছে হস্তান্তর করাই সমীচীন।
কেবল কেজরি নয়, মণীশ সিসোদিয়া, সঞ্জয় সিং, বিনয় মিশ্র, দেবেশ বিশ্বকর্মা, দুর্গেশ পাঠক, এবং সৌরভ ভরদ্বাজরাও রয়েছেন এই অবমাননার মামলার অভিযুক্তদের তালিকায়।
প্রসঙ্গত, অরবিন্দ কেজরিওয়াল এর আগে অভিযোগ করেছিলেন বিচারপতি স্বর্ণকান্তা শর্মা পক্ষপাতদুষ্ট। সোশাল মিডিয়ায় তাঁকে দাবি করতে দেখা গিয়েছিল, গান্ধীজির সত্যাগ্রহের পথ অনুসরণ করেই তিনি ওই বিচারপতির শুনানিতে উপস্থিতই থাকবেন না। এদিন যে প্রসঙ্গে বিচারপতি শর্মা জানিয়েছেন, ''বিচারকের পোশাক শান্ত থাকারই শিক্ষা দেয়। কিন্তু কখনও কখনও নীরব থাকাটা বরং অন্যায়, তা বিচারবিভাগীয় সংযম নয়।''
তবে কেবল কেজরি নয়, মণীশ সিসোদিয়া, দুর্গেশ পাঠক, বিনয় মিশ্র, দেবেশ বিশ্বকর্মা, সঞ্জয় সিং এবং সৌরভ ভরদ্বাজরাও রয়েছেন এই অবমাননার মামলার অভিযুক্তদের তালিকায়। সব মিলিয়ে দিল্লির পূর্বতন প্রশাসনের মুখ্য ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আদালতের এই সংঘাত নজিরবিহীন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
