পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে তেল সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এহেন পরিস্থিতিতে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, এবার জ্বালানি সংকটের মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ করছে কেন্দ্র। প্রতি রবিবার নাকি বন্ধ থাকবে পেট্রল পাম্প। ভাইরাল হয়ে গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেওয়া একটি পোস্ট। কিন্তু এই গুঞ্জন ভিত্তিহীন। এমনটাই জানিয়ে দিল মোদি সরকার।
ঠিক কী দাবি ছিল ওই পোস্টে? সেখানে বলা হয়েছে, এবার থেকে প্রতি রবিবার পেট্রল পাম্পগুলি বন্ধ থাকবে। গোটা দেশে না হলেও কিছু রাজ্যে তো বটেই। যার মধ্যে রয়েছে মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরল, পুদুচেরি, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু।
অবশেষে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো জানিয়েছে, এই দাবি একেবারেই ভিত্তিহীন। রাজ্যে রাজ্যে সপ্তাহান্তে পেট্রল পাম্প বন্ধ রাখার যে দাবি করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যে। কেন্দ্র এমন কোনও পদক্ষেপ করেনি। সেই সঙ্গেই সকলকে এই ধরনের খবর একবার যাচাই না করে সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার কিংবা মেসেজিং অ্যাপে ইউজারদের না পাঠাতেই আর্জি জানানো হয়েছে। পরিষ্কার বলা হয়েছে, কেবল সরকারি বিজ্ঞপ্তিই বিশ্বাস করতে।
ভাইরাল হয়ে গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেওয়া একটি পোস্ট। কিন্তু এই গুঞ্জন ভিত্তিহীন। এমনটাই জানিয়ে দিল মোদি সরকার।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ না থামলে বাধ্য হয়েই বাড়াতে হবে পেট্রল-ডিজেলের দাম। সরকারের পাশে দাঁড়িয়েই আমজনতার জন্য আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। তিনি মেনে নিয়েছেন, এভাবে চলতে থাকলে আমজনতার উপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপাতে বাধ্য হবে সরকার। সূত্রের খবর, ৫ রাজ্যের ভোটপর্ব মিটতেই এই বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে সরকার।
উল্লেখ্য, রবিবারই জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশেষ বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একদিকে যেমন করোনাকালের কথা স্মরণ করিয়ে আমজনতাকে বাড়ি থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে, আগামী একবছর বিদেশযাত্রা কিংবা বিদেশে গিয়ে বিয়ের পরিকল্পনাও আপাতত কাটছাঁট করার আর্জি জানিয়েছেন মোদি। একইসঙ্গে ভোজ্য তেলের ব্যবহার হ্রাস এবং সোনা কেনাও কমিয়ে আনারও আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যদিও সরকারের দাবি, এখনও দেশে পেট্রল-ডিজেলের সংকট তৈরি হয়নি।
