কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈকে ফের ‘পাকিস্তানের এজেন্ট’ বলে আক্রমণ করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। অন্যদিকে, হিমন্তকে পালটা তোপ দেগে গগৈ বলেছেন, “পুরোটাই একটা ফ্লপ রাজনৈতিক নাটক। আমার সন্তানদেরও রেহাই দেওয়া হচ্ছে না। এবার আমি আইনি পদক্ষেপ নেব।”
সোমবার গগৈয়ের পাক সফর নিয়ে আবার প্রশ্ন তোলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কংগ্রেস সাংসদের ভ্রমণ নিয়ে যথেষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে। হিমন্ত বলেন, “গগৈ নিজেই জানিয়েছেন তক্ষশিলা ইসলামাবাদে নয়, রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত। এই বিষয়গুলি এড়িয়ে যাওয়ার নয়।” তিনি আরও বলেন, “গগৈয়ের পাকিস্তান ভিসায় যদি স্পষ্টভাবে লাহোর, ইসলামাবাদ ভ্রমণের অনুমতি থাকে, তাহলে তিনি কীভাবে তক্ষশীলা পরিদর্শন করলেন? এটি ইসলামাবাদের বাইরে। পাকিস্তানের অভিবাসন নিয়ম অনুযায়ী, বিশেষ অনুমোদন ছাড়া ভিসা-নির্ধারিত শহরগুলির বাইরে ভ্রমণের অনুমতি দওয়া হয় না।”
এরপরই হিমন্তকে পালটা হুঁশিয়ারি দেন গগৈ। গুয়াহাটিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেস সাংসদ বলেন, “হিমন্ত সিট রিপোর্টটি উদ্ধৃত করেছিলেন, তা গত ছয় মাস ধরে হিমঘরে পড়েছিল। কারণ, আমার পাক-যোগ প্রমাণে তারা ব্যর্থ। অসমের মুখ্যমন্ত্রীর গোটা অভিযোগকে তিনি একটা ‘ফ্লপ রাজনৈতিক নাটক’ বলেও অভিহিত করেছেন। হিমন্তকে কটাক্ষ করে গগৈ আরও বলেন, “"উনি এত নিচে নেমে গিয়েছেন যে আমার সন্তানদেরও ছাড়ছেন না। আমরাও তাঁর সন্তানদের সম্পর্কেও জানি। প্রত্যেকে জানে। কিন্তু আমরা তাঁর পরিবারকে কোনওদিন রাজনীতিতে টেনে আনিনি। আমি আইনি পদক্ষেপ নেব।”
পাকিস্তানের পরিকল্পনা কমিশনের প্রাক্তন উপদেষ্টা তৌকির শেখের হয়ে গগৈয়ের স্ত্রী এলিজাবেথ কলবোর্ন কাজ করতেন বলে আগেই অভিযোগ উঠেছিল। তার তদন্তেই অসমে সিট গঠন করে হিমন্তের সরকার। সম্প্রতি তারই ৪৪ পাতা রিপোর্ট জমা পড়েছে। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে হিমন্ত জানান, তদন্তে দেখা গিয়েছে, গৌরব এবং তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানের গভীর যোগসূত্র রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নজর এড়িয়ে আটারি সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানে যেতেন গগৈয়ের স্ত্রী। বিয়ের পর থেকে তিনি মোট ন’বার ইসলামাবাদে গিয়েছিলেন। ২০১৩ সালে সস্ত্রীক পাকিস্তানে গিয়েছিলেন গগৈও। সেই সময়ে শুধু লাহোর যাওয়ার অনুমতি মিললেও, পরে তাঁরা ইসলামাবাদ এবং করাচিতেও যান বলে অভিযোগ।
