ফের অশান্ত জম্মু-কাশ্মীর। হামলার মুখে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ ও বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরী। বুধবার রাতে জম্মুর গ্রেটার কৈলাস এলাকায় তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় এক আততায়ী। অল্পের জন্য ন্যাশনাল কনফারেন্সের বর্ষীয়ান নেতা ফারুক আবদুল্লাহ রক্ষা পেলেও গুলি লাগে সুরিন্দর চৌধুরীর। তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আততায়ীকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে খবর। কী কারণে রাজনৈতিক নেতাদের উপর হামলা চালাল, নেপথ্যে কারা? গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশ। হাইপ্রোফাইল নেতাদের উপর এই হামলার ঘটনার পর রাতারাতি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে কয়েকগুন।
জানা গিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় জম্মুর গ্রেটার কৈলাসের রয়্যাল পার্ক এলাকায় এক বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন এনসি-র বর্ষীয়ান নেতা তথা জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদু্ল্লাহ, সঙ্গে ছিলেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরী এবং মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর পরামর্শদাতা নাসির আসলাম ওয়ানি। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ বিয়েবাড়িতে ঢুকে এক যুবক গুলি চালায় বলে অভিযোগ।
গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন একজন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে।
অল্পের জন্য গুলি লাগেনি ফারুক আবদুল্লাহর। সামান্য আহত হয়েছেন সুরিন্দর চৌধুরী। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ তৎপর হয়। আহত উপ-মুখ্যমন্ত্রীকে হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি আততায়ীকেও ধরে ফেলে। জানা যায়, তার নাম কমল সিং জম্মোয়াল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশের অনুমান, মদ্যপ অবস্থায় ছিল সে, নেশার ঘোরে গুলি চালিয়েছিল। তবে গুলিচালনার পিছনে অন্য কোনও ষড়যন্ত্র আছে কিনা, তা জানতে তৎপর তদন্তকারীরা।
গোটা ঘটনায় জম্মু-কাশ্মীরের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরী নিরাপত্তার গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, রয়্যাল পার্কের বিয়েবাড়িতে সবাই একসঙ্গে ছিলেন।এর মাঝে কীভাবে গুলিচালনার মতো ঘটনা ঘটল, তা ভাবার।নিরাপত্তা এত ঢিলেঢালা ছিল কেন? কেন ওখানে একজন পুলিশকর্মীও ছিলেন না? পুলিশকে তার জবাবদিহি করতে হবে।
আপাতত নিরাপদে রয়েছেন ফারুক আবদুল্লাহ-সহ সকলে। এই ঘটনায় খানিকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন বর্ষীয়ান ফারুক আবদুল্লাহ। তবে আপাতত বিশ্রামের পর তিনি ধাতস্থ। হামলা থেকে বেঁচে ফিরে 'আল্লাহ'কে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন তাঁদের সঙ্গী নাসির আসলাম ওয়ানি।
