মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখে দেশ। তেল সরবরাহ নিয়ে এখনও সমস্যা না হলেও বাংলা-সহ গোটা দেশেই রান্নার গ্যাস সরবরাহে ইতিমধ্যেই ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। গ্যাস বুকিং করতে গিয়ে রীতিমতো হয়রানির মধ্যে পড়তে পড়তে হচ্ছে আমআদমিকে। এই পরিস্থিতিতে দেশের মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হতে বলল কেন্দ্র। শুধু তাই নয়, গ্যাস বুকিং করার আড়াই দিনের মধ্যেই সিলিন্ডার পাওয়া যাবে বলেও জানিয়েছে পেট্রলিয়াম মন্ত্রক।
গ্যাস নিয়ে দেশজুড়ে চলা আতঙ্ক এবং উদ্বেগের মধ্যেই বুধবার পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করেন যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা। তিনি বলেন, ''সঙ্কটের আঁচ করে কেউ যাতে অতিরিক্ত গ্যাস বুকিং না করেন এবং বর্ধিত চাহিদা সামাল দেওয়ার জন্য বুকিং-এর ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। সিলিন্ডার বুকিংয়ের আড়াইদিনের মধ্যেই মিলবে গ্যাস।'' শুধু তাই নয়, ক্রুড ওয়েলের জোগানও ঠিকঠাক রয়েছে বলেও জানিয়েছেন যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা। তাঁর কথায়, ''গোটা বিশ্ব কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ভারতের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ক্রুড ওয়েলের জোগানও ঠিক রয়েছে।''
সুজাতা শর্মা বলেন, ''সঙ্কটের আঁচ করে কেউ যাতে অতিরিক্ত গ্যাস বুকিং না করেন এবং বর্ধিত চাহিদা সামাল দেওয়ার জন্য বুকিং-এর ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। সিলিন্ডার বুকিংয়ের আড়াইদিনের মধ্যেই মিলবে গ্যাস।''
বলে রাখা প্রয়োজন, মোদি সরকার আগেই জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইচ্ছামতো গ্যাস বুকিং করা যাবে না। প্রথমে বলা হয়, ২১ দিন অন্তর অন্তর গ্যাস বুক করা যাবে। গত মঙ্গলবার সেই নিয়মও বদলে বলা হয়, গ্যাস বুকিং করতে হবে অন্তত ২৫ দিনের ব্যবধানে। কেন্দ্রের দাবি, এলপিজি গ্যাসের বাড়তি মজুত এবং কালোবাজারি রুখতেই বুকিং-সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। এর মধ্যেই সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় অতি প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ আইন অর্থাৎ এসমা জারি করেছে কেন্দ্র। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সরকার। বিজ্ঞপ্তি জারি করে সাফ বলে দেওয়া হয়েছে, এবার থেকে গ্যাসের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যা নিয়ে জনমানসে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
