সমাজমাধ্যমে লাস্যময়ী সুন্দরীর সঙ্গে আলাপ। সেই সুন্দরীর রূপ ও লাস্যে পাগল বায়ুসেনার আধিকারিক। তার পর বন্ধুত্ব, ঘনিষ্ঠতা। চ্যাট, ভিডিও কলে উদ্দাম যৌনতা, ফোন সেক্স। তারপরই শুরু আসল খেলা। ওই সুন্দরী এবার একে একে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গোপন তথ্য চাওয়া শুরু করলেন বায়ুসেনার ওই আধিকারিকের কাছ থেকে। যৌনতার ফাঁদে পড়ে সেসব তথ্য ধীরে ধীরে ওই তরুণীর কাছে ফাঁস করে দিতে শুরু করলেন ওই আধিকারিক। শুধু তাই নয়, ওই তরুণীর প্ররোচনায় সহকর্মীর ফোনে গোপনে তথ্য চুরির সফ্টওয়্যার ইনস্টল করে দেন তিনি।
ওই লাস্যময়ী তরুণীর হাতছানি আসলে ছিল পাক গোয়েন্দা দপ্তরের পাতা ফাঁদ। যে ফাঁদে পা দিয়ে একের পর এক দেশবিরোধী কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছেন দিল্লির বায়ুসেনা আধিকারিক। সবটা ফাঁস হতেই ওই সেনা আধিকারিককে হেফাজতে নেয় দিল্লি পুলিশ। শনিবারই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে (IAF Wing Commander Arrested)। দেশের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্যফাঁসের অভিযোগে ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের এক সূত্রের দাবি, দেশের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য এবং বাহিনীর গোয়েন্দা সংক্রান্ত তথ্য জোগাড়ে একটা বড় চক্র কাজ করছে। সেই চক্রের হদিশ পেতেই এই বায়ুসেনা আধিকারিকের নাম প্রকাশ্যে আসে। গত ৩১ মে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। শনিবার তাঁর গ্রেপ্তারির খবর প্রকাশ্যে এসেছে। বায়ুসেনার এক মুখপাত্রের দাবি, হেফাজতে নেওয়ার আগে অভিযুক্ত কামান্ডারকে অনেক দিন নজরে রাখা হয়েছিল। তার পরই তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে।
ওই আধিকারিক কী কী তথ্য পাচার করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সহকর্মীদের ফোনে তিনি কী ধরনের ম্যালওয়্যার আপলোড করেছেন, তাতে কী কী তথ্য ফাঁস হতে পারে, সেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঠিক কতটা সংবেদনশীল তথ্য পাক তরুণীকে তিনি দিয়েছেন সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনার সঙ্গে আর কেউ যুক্ত কিনা, সেটাও জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
