দু'দিন আগে দেশের প্রাক্তন সেনাপ্রধান এমএম নারাভানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা নিয়ে নিয়ে উত্তাল হয়েছিল সংসদ। সেই বইয়ের অংশ তাঁকে পড়তে দেওয়া হয়নি বলে যে অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, তা নিয়েই যত বিতর্ক। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণের উপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ধন্যবাদজ্ঞাপক ভাষণ দেওয়া কথা বুধবারও। এ দিনেও তুমুল হইহট্টগোলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, কারণ রাহুল নিজের হাতে মোদিকে চিনা আগ্রাসন নিয়ে নারাভানের বিতর্কিত বই দেবেন বলে ঠিক করেছেন!
বুধবার সংসদে রাহুল জানান, প্রধানমন্ত্রীর সংসদে আসার ধক নেই! আর যদি তিনি আসেন, তাহলে তাঁকে প্রাক্তন সেনাপ্রধানের বই দেবেন তিনি। কংগ্রেস নেতার কথায়, "যদি প্রধানমন্ত্রী আসেন, আমি সশরীরে যাব এবং নিজের হাতে ওঁকে বই দেব, যাতে উনি তা পড়তে পারেন এবং গোটা দেশ সত্যটা জানতে পারে। এই বইটার অস্তিত্বের কথা দেশের যুবসমাজের জানা উচিত। এটা নারাভানের বই। লাদাখ সংক্রান্ত গোটা বিষয় রয়েছে এই বইয়ে। আমায় বলা হয়েছে, আমি এই বইকে উদ্ধৃত করতে পারব না।"
২০২০-তে পূর্ব লাদাখে চিনের সেনার সঙ্গে ভারতের সেনার হাতাহাতিতে কুড়ি জন ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যু হয়েছিল। চিনের সেনা ভারতের এলাকায় ঢুকে পড়েছিল বলে অভিযোগ উঠলেও প্রধানমন্ত্রী মোদি দাবি করেছিলেন, ভারতের এলাকায় কেউ ঢুকে আসেনি, কেউ ঢুকে বসেও নেই।
প্রাক্তন সেনাপ্রধান এই বইয়ে ২০২০-তে ডোকলাম সীমান্তে চিনের সেনার সঙ্গে ভারতের সেনার সংঘর্ষের কথা লিখেছেন। প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল কী ভাবে সে সময় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তার কথা সেখানে লেখা হয়েছে। সেই অংশই গত সোমবার সংসদে পড়তে চেয়েছিলেন রাহুল। তাঁকে তা পড়তে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। বাধা দিয়েছিলেন রাজনাথ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রতিবাদ করেছিলেন সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। রাহুলের বক্তব্য, ‘‘এই বই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপির নেতা-সাংসদরা কংগ্রেসের দেশভক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।’’
সেদিন অধিবেশন ভন্ডুল হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত রাহুল সেই অংশটি সংসদে পড়তে পারেননি। কিন্তু কংগ্রেস পরে বইয়ের বিশেষ অংশটি প্রকাশ করে দিয়েছে। প্রকাশিত অংশ অনুযায়ী, প্রাক্তন সেনাপ্রধান লিখেছেন, ২০২০-র ৩১ অগস্ট তিনি নর্দান কমান্ডের প্রধান লেফটেনান্ট জেনারেল যোগেশ জোশীর থেকে ফোনে জানতে পারেন, চিনের সেনার চারটি ট্যাঙ্ক পদাতিক সেনা-সহ পূর্ব লাদাখের কৈলাস রেঞ্জের দিকে এগোচ্ছে। সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে এই ফোন পেয়েই সেনাপ্রধান বিষয়টা প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়ত, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালকে জানান। ঘণ্টাখানেক পরেও কোনও নির্দেশ না আসায় ফের তিনি রাজনাথকে ফোন করেন। তখনও কোনও নির্দেশ মেলেনি। শেষে আরও এক ঘণ্টা পরে রাজনাথ ফোন করে জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বলেছেন, যেটা ঠিক মনে হয়, সেটাই করতে হবে। অর্থাৎ পুরো দায়িত্বটাই সেনাপ্রধানের উপরে চাপিয়ে দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২০-তে পূর্ব লাদাখে চিনের সেনার সঙ্গে ভারতের সেনার হাতাহাতিতে কুড়ি জন ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যু হয়েছিল। চিনের সেনা ভারতের এলাকায় ঢুকে পড়েছিল বলে অভিযোগ উঠলেও প্রধানমন্ত্রী মোদি দাবি করেছিলেন, ভারতের এলাকায় কেউ ঢুকে আসেনি, কেউ ঢুকে বসেও নেই।
