এসআইআর মামলায় (SIR Case) সুপ্রিম কোর্টে বড় জয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee in Supreme Court)। নির্বাচন কমিশনকে নোটিস জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। আজ বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী, বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে এসআইআর মামলার শুনানি হয়। যেখানে 'পার্টি ইন পার্সন' হিসেবে বাংলার মানুষের হয়রানির কথা তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মামলার শুনানিতেই নির্বাচন কমিশনকে নোটিস জারির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সহানুভূতিশীল হতেও নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে এসআইআর শুনানিতে মাইক্রো অবজার্ভারদের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট।
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী হিসাবে প্রথমে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেন আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান। আদালতে তিনি জানান, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের বাকি আর মাত্র ১১ দিন। ৪ দিন বাকি আছে শুনানি শেষ হওয়ার। 'অ্যানম্যাপড' হিসাবে ৩২ লক্ষ ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান বলেন, ''এখনও ৬৩ লক্ষ মানুষের শুনানি বাকি আছে। এই অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে শুনানি করতে হলে প্রতি দিন ১৫.৫ লক্ষ শুনানি করতে হবে।'' যা অসম্ভব বলে দাবি করেন আইনজীবী। শুধু তাইও নয়, মাইক্রো অবজার্ভারদের নিয়োগ করা নিয়েও আদালতে অভিযোগ জানান তিনি।
সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী।
এই অবস্থায় রাজ্যের অবস্থা কী তা ব্যাখ্যা দিতে প্রধান বিচারপতির কাছে সময় চেয়ে নেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ''কোথাও বিচার পাচ্ছি না। দয়া করে আমাকে বলতে দিন। মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছি, গোটা পরিস্থিতি বলতে পারি।'' শুধু তাই নয়, বাংলায় চলা এসআইআর প্রক্রিয়া শুধু নাম কাটার জন্য বলেও আদালতে অভিযোগ জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী পদবি থেকে শুরু করে, বাড়ি বদলালেও কীভাবে নাম কাটা হচ্ছে তা তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ''যা করতে দু’বছর লাগে, সেটা দু’মাসে করতে গিয়ে মানুষ হয়রান হচ্ছে।'' এই অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের কাছে মানুষের অধিকার রক্ষার আবেদন জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ''যা করতে দু’বছর লাগে, সেটা দু’মাসে করতে গিয়ে মানুষ হয়রান হচ্ছে।'' এই অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের কাছে মানুষের অধিকার রক্ষার আবেদন জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত নির্বাচন কমিশনকে নোটিস জারি করে। বাংলায় চলা এসআইআরে কী কী পদক্ষেপ করছে নির্বাচন কমিশন, তা জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এসআইআর প্রক্রিয়ায় কত অফিসার দিতে পারবে রাজ্য, তাও নবান্নকে জানাতে এদিন নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের।
