আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে মদত দেয় পাকিস্তান। তাদের পাশে না দাঁড়ানোর জন্য পোল্যান্ডকে বার্তা দিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। স্পষ্ট ভাবে এ-ও জানিয়ে দিলেন, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদে মদত দিতে উৎসাহ পায়, এমন কোনও কাজ যাতে না করে ওয়ারশ (পোল্যান্ডের রাজনীতি)।
তিন দিনের ভারত সফরে এসেছেন পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী সিকরস্কি। সোমবারই এই সফর শেষ করে তিনি দেশে ফিরে যাবেন। তার আগে জয়শংকরের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। ওই বৈঠকের পরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তাঁরা। সেখানে তাঁরা জানান, একাধিক বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় উঠে এসেছে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গ। পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী উদ্দেশে জয়শংকর বলেন, "আমরা আশাবাদী, পোল্যান্ড সন্ত্রাসবাদে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েই চলবে।" যদিও পাকিস্তানের নাম নেননি ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তবু অনেকের মত, জয়শংকর আদতে ইসলামাবাদের কথাই বলতে চেয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত বছর দু'দিনের সফরে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন সিকরস্কি। পরে দু'দেশ যৌথ বিবৃতি দেয়। তাতে উঠে আসে কাশ্মীর প্রসঙ্গ। জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে বিবাদে রাষ্ট্রসংঘের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয় সেই বিবৃতিতে। যদিও নয়াদিল্লি বরাবরই এই দাবির বিরোধী। তাদের বক্তব্য, কাশ্মীর বিবাদ দ্বিপাক্ষিক বিষয়। তৃতীয় কোনও দেশের হস্তক্ষেপ ভারত বরদাস্ত করবে না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে পোল্যান্ডের সেই বিদেশমন্ত্রীকে পাশে নিয়ে জয়শংকরের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বিবৃতি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক মহল।
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ভারতকে ধারাবাহিক নিশানা করার বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়েছেন জয়শংকর। কম দামে রুশ তেল কিনে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোর পাশে দাঁড়াচ্ছে নয়াদিল্লি! এই অভিযোগ তুলে একাধিক বার ভারতকে বিঁধেছে আমেরিকা। এই কারণে ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্কও চাপিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের নাম না করলেও আমেরিকার ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য ভারতকে দায়ী করার প্রবণতাকে 'অন্যায্য' বলে মন্তব্য করেছেন জয়শংকর। বলেছেন, "আমি অতীতে একাধিক বার বলেছি, ভারতকে যে ভাবে দোষারোপ করা হচ্ছে, তা উচিত নয়। এটা অন্যায্য। এই কথা আমি আবার বলছি।"
