সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২০-এর গালওয়ান সংঘর্ষে ভারতীয় জওয়ানদের মৃত্যু, রক্ত ঝরার পর চিনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিধিনিষেধ চাপিয়েছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। নিয়ম করেছিল, ভারতের সরকারি কাজের বরাত পেতে গেলে চিনা সংস্থাগুলিকে এদেশের সরকারি কমিটিতে নথিভুক্তি করতে হবে। রাজনৈতিক, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্রও পেতে হবে। বিধিনিষেধের জেরে প্রায় ৭০০ থেকে ৭৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থমূল্যের প্রোজেক্টে শামিল হতে পারেনি একাধিক চিনা কোম্পানি। তবে এবার সেই কড়াকড়ি শিথিল করতে চলেছে মোদি সরকার, এমনটাই সূত্রের খবর।
সূত্রগুলি জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের অফিসাররা সীমান্ত সংলগ্ন দেশের কোম্পানিগুলির দরপত্র জমার ক্ষেত্রে বাধ্যতমূলক ভাবে নথিভুক্তির নিয়ম প্রত্যাহারের ব্যাপারে কথাবার্তা চালাচ্ছেন। যদিও চূড়ান্ত সবুজ সংকেত দেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দপ্তর (পিএমও)। তবে পিএমও বা অর্থমন্ত্রক সূত্রে কোনও মন্তব্য আসেনি। বিধিনিষেধ চালুর কয়েক মাস পর চিনা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা সিআরআরসি-কে ২১৬ মার্কিন ডলার অর্থমূল্যের রেলনির্মাণ সংক্রান্ত বরাত থেকে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু ৫ বছর পর নয়াদিল্লির কড়া মনোভাব শিথিল হতে চলেছে বলে ওয়াকিবহাল মহল সূত্রের খবর।
কেন এমন সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে জল্পনার মধ্যেই একটি সূত্রে বলা হচ্ছে, চিনা কোম্পানিগুলির উপর বিধিনিষেধ জারির ফলে নানা প্রোজেক্টের কাজে বিলম্ব হচ্ছিল। বেশ কিছু কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের তরফে বলা হয়, বিধিনিষেধের ধাক্কায় গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামা সংক্রান্ত কাজকর্ম রূপায়ণে দেরি হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সচিব রাজীব গাউবা নেতৃত্বাধীন উচ্চ পর্যায়ের কমিটি বিধিনিষেধ শিথিলের সুপারিশ করে। যদিও ভারত সাবধানি অবস্থান বজায় রেখেই এগোচ্ছে। প্রত্যক্ষ চিনা বিনিয়োগে রাশ এখনও বহাল। নিরাপত্তা ও আর্থিক স্বনির্ভরতা সংক্রান্ত উদ্বেগ বিবেচনা করেই সতর্ক হয়েই পা ফেলছে নয়াদিল্লি।
