ভারতের আমন্ত্রণ রক্ষা করে ফেরার পথে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে ইরানের যুদ্ধজাহাজ। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে এই ঘটনায় শুরু হয়েছে কূটনৈতিক টানাপোড়েন। এহেন পরিস্থিতিতেই জানা গিয়েছে, মার্কিন হামলার আগে থেকেই ভারতে রয়েছে ইরানের আরেকটি যুদ্ধজাহাজ। কোচি বন্দরে আপাতত জাহাজটি নোঙর করা রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই জাহাজকে কেন্দ্র করে কি মার্কিন রোষে পড়তে পারে 'বন্ধু' ভারত?
সূত্রের খবর, আইআরআইএস লাভান ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় রয়েছে গত সাতদিন ধরে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারতের কাছে সাহায্য চেয়ে বার্তা পাঠায় জাহাজটি। কিছু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই ভারতের কাছে ইরানি জাহাজ আশ্রয় চেয়েছিল। পরের দিন অর্থাৎ ১ মার্চ জাহাজকে আশ্রয় দেয় কেন্দ্র। উল্লেখ্য, ওইদিনই ভোররাতে যৌথ হামলায় মৃত্যু হয় ইরানের সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের। জানা গিয়েছে, গত বুধবার ভারতের কোচি বন্দরে এসে পৌঁছয় ইরানি রণতরী। প্রসঙ্গত, সেদিনই মার্কিন টর্পেডোর আঘাতে ধ্বংস হয়ে যায় ইরানের আইআরআইএস ডেনা।
আরও জানা গিয়েছে, ভারতে সামরিক মহড়া করতে এসেছিল আইআরআইএস লাভানও। মোট ১৮৩ জন কর্মী ছিলেন ওই জাহাজে। তাঁরা কোচিতে ভারতীয় নৌসেনা ঘাঁটিতেই আপাতত রয়েছেন। এই জাহাজ ভারত ছেড়ে কবে ফিরে যাবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। গোটা বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, ইরানের জাহাজ ভারতে থাকায় ট্রাম্প রুষ্ট হবেন কি? বর্তমানে ইজরায়েলের সঙ্গেও নয়াদিল্লির যথেষ্ট ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। ইরানি জাহাজকে আশ্রয় দেওয়াটা তেল আভিভও কি ভালোভাবে নেবে?
আমেরিকার দাবি, ইরানের সঙ্গে সংঘাত যতদিন পর্যন্ত না মিটছে ততদিন পর্যন্ত ইরানের যুদ্ধজাহাজ বা ইরানি কর্মী কাউকেই ‘মুক্তি’ দেওয়া যাবে না। ভারত ছেড়ে বেরনোর পর ইরানের এই জাহাজেও মার্কিন হামলা হতে পারে, সেই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সমস্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। বিখ্যাত সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর, ইরানি জাহাজ নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। শ্রীলঙ্কায় থাকা ইরানি জাহাজ বা সেখানকার কর্মীদের আপাতত 'বন্দি' করে রাখতে 'নির্দেশ' দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। ভারতকেও একই পথে হাঁটতে হবে বলেই দাবি মার্কিন প্রশাসনের, এমনটাই বলা হয়েছে রয়টার্সের প্রতিবেদনে। আমেরিকার দাবি, ইরানের সঙ্গে সংঘাত যতদিন পর্যন্ত না মিটছে ততদিন পর্যন্ত ইরানের যুদ্ধজাহাজ বা ইরানি কর্মী কাউকেই ‘মুক্তি’ দেওয়া যাবে না। ভারত ছেড়ে বেরনোর পর ইরানের এই জাহাজেও মার্কিন হামলা হতে পারে, সেই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
