আহমেদাবাদের এয়ার ইন্ডিয়া বিমান দুর্ঘটনায় পাইলটকেই কাঠগড়ায় তুলে বিস্ফোরক রিপোর্ট পেশ করেছিল ইটালির এক সংস্থা। কিন্তু সেই রিপোর্ট একেবারে উড়িয়ে দিয়েছে ভারত। বৃহস্পতিবার এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর (AAIB) তরফ থেকে জানানো হয়, এই রিপোর্ট অসত্য। একেবারে কল্পনার পাতা থেকে উঠে এসেছে এই রিপোর্ট।
বুধবার ইটালির দৈনিক ‘কোরিয়ের ডেলা সেরা’র একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার যে বিমান ভেঙে পড়েছিল, তা নিছক কোনও দুর্ঘটনা নয়। ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানের জ্বালানি সুইচ বন্ধ করে দিয়েছিলেন পাইলট। এর ফলেই বিমানটি ক্রমশ নিচে নেমে আসে এবং ভেঙে পড়ে। ওই দৈনিকের আরও দাবি, ভারতীয় তদন্তকারীদের মতামতের উপর ভিত্তি করেই নাকি এই রিপোর্ট তৈরি হয়েছে। ‘কোরিয়ের ডেলা সেরা’ শীঘ্রই এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বলেও জানায়।
২০০ জনেরও বেশি প্রাণ গিয়েছিল আহমেদাবাদের বিমান দুর্ঘটনায়। সেই মৃত্যু মিছিলের দায় পাইলট সুমিত সবরওয়ালের! ইটালির এমন রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই হইচই পড়ে যায়। তারপরেই রিপোর্ট নিয়ে মুখ খুলেছে AAIB। সংস্থার তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, ইটালির দৈনিকের এই রিপোর্টের সত্যতা নেই। এখনও বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত চলছে। যাবতীয় প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাই সংবাদমাধ্যমগুলির এই ধরণের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত খবর ছড়ানো উচিত নয়। এই খবরগুলিতে আমজনতার মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়।
ইটালির রিপোর্টকে নাকচ করে দিলেও AAIB-র প্রাথমিক রিপোর্টে আঙুল তোলা হয়েছিল পাইলটের দিকেই। বলা হয়, ইঞ্জিন বন্ধের ঠিক আগের মুহূর্তে একজন পাইলট অপরজনকে বলেন, ‘ইঞ্জিন বন্ধ করলে কেন?’ অপর পাইলট জবাব দেন, ‘আমি কিছু বন্ধ করিনি।’ কিন্তু ইটালির রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পরে AAIB-র বার্তা, কারোর দিকে আঙুল তোলাটা তদন্তের উদ্দেশ্য নয়। বরং দুর্ঘটনার আসল কারণ চিহ্নিত করা এবং তার ভিত্তিতে বিমানের সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করাটাই মুখ্য বিষয়।
প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনার জন্য ছেলেকে অহেতুক দোষী সাব্যস্ত করা হচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে পাইলট সুমিত সবরওয়ালের বাবা ৮৮ বছরের পুষ্করাজ সবরওয়াল সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁকে আশ্বস্ত করে শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, “কেউ আপনার সন্তানকে কোনও কিছুর জন্য দায়ী করতে পারবে না।" সুপ্রিম কোর্টের সেই বার্তার ফলেই কি নিজেদের তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট প্রায় ভুলে গিয়ে পাইলটকে আড়াল করার চেষ্টা করছে AAIB?
