এক্সপ্রেস হোক বা মেল ট্রেন, দূরপাল্লার যাত্রীদের কাছে ট্রেনের (Indian Railways) টয়লেট রীতিমতো মাথাব্যথার বিষয় বটে। দীর্ঘ পথ যাত্রার ক্ষেত্রে টয়লেটের প্রয়োজনীয়তা এড়ানোর উপায় নেই। এদিকে পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবহারিক অসুবিধাও বারেবারে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সে পথে। ট্রেনের দ্রুত গতির জন্য এমনিতেই টয়লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে অস্বস্তি বোধ করেন অনেক যাত্রীই।
তার উপর বাড়তি ঝামেলা- শিকলে বাঁধা মগ! মগের আয়তন ছোট, ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী জল ধরে না তাতে। বরং কাজে লাগার আগেই চারিদিকে জল ছড়িয়ে একশা কাণ্ড বাধে! অন্যদিকে শিকলের দৈর্ঘ্যও যথেষ্ট কম। অর্থাৎ তা স্বচ্ছন্দে ব্যবহারের ক্ষেত্রে একেবারেই অনুপযোগী। যাত্রীদের মধ্যে প্রায়শই এই মগ নিয়ে ক্ষোভ অথবা রসিকতা দেখতে মেলে।
দূরপাল্লার ট্রেনের শৌচাগার মানেই শিকলে বাঁধা মগ!
এ সমস্যা ঘোচাতেই এবার তৎপর রেল মন্ত্রক। দূরপাল্লার ট্রেনের শৌচাগার থেকে বাদ দিতে হবে শিকলে বাঁধা মগ। এমনকি সংশ্লিষ্ট জলের কলটিও। বদলে থাকবে অত্যাধুনিক জেট স্প্রে। দেশের প্রতিটি রেলওয়ে জোনের কাছে এই নির্দেশ ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে রেল মন্ত্রকের সৌজন্যে।
রেল আধিকারিকদের মতে, পূর্বে কেবল জলের কলটুকুই থাকত শৌচাগারের ভিতর। পরবর্তীকালে যাত্রীদের সুবিধের কথা ভেবে স্টিলের মগটির অবতারণা। সেটিকে আবার স্থানান্তর হওয়া থেকে বাঁচাতে শিকলে বাঁধার পরিকল্পনা! যদিও, শিকল ভেঙে চুরি গিয়েছে ট্রেনের শৌচাগারের মগ, এ ঘটনাও বিরল নয় এ দেশে! সে সমস্ত অসুবিধের অবসান ঘটিয়ে এবার আসতে চলেছে জেট স্প্রে!
রেল মন্ত্রকের নিদান, ট্রেনের শৌচাগারে এবার থাকবে জেট স্প্রে!
সূত্র মতে, নর্দার্ন রেলওয়ের পাশাপাশি দিল্লি ও অম্বালা ডিভিশনের শতাব্দী এক্সপ্রেসের শৌচাগারে মহড়া দেওয়া হয়েছে এর মধ্যে। সফল হওয়ায়, নর্দার্ন রেলওয়ের শতাব্দী এক্সপ্রেসের ১৮২টি কোচে বসানো হয়েছে জেট স্প্রে। তবে প্রশ্ন থেকে যায় যাত্রীদের নাগরিক সচেতনতা নিয়ে, যা বিগত বছরগুলিতে প্রশ্নের মুখে পড়েছে বারেবারে।
ঝাঁ-চকচকে ট্রেনের ভিতরের জিনিস চুরি যাওয়া বা ইচ্ছেকৃত ভেঙে দেওয়ার ঘটনা বহুবারই উঠেছে শিরোনামে। তাই যাত্রী স্বার্থেই জেট স্প্রে বসানো হলেও, উদ্দেশ্য কতদূর সাধিত হবে, যাত্রীরাই বা এই নতুন পরিবর্তন কতখানি উদারচিত্তে গ্রহণ করবেন, তা-ই এখন দেখবার বিষয়।
