একটা সময় ছিল যখন ভারতের সামরিক ভাণ্ডার পূর্ণ ছিল বিদেশি অস্ত্রে। কিন্তু আজকের আত্মনির্ভর ভারত আর বিদেশি শক্তির উপর নির্ভর করে না। উলটে ভারতে তৈরি অত্যাধুনিক অস্ত্র কিনছে বিশ্বের বহু দেশে। সেই সূত্রে এবার নয়া মাইলফলক ছুঁল নয়াদিল্লি। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের বার্ষিক প্রতিরক্ষা উৎপাদন (India Defence Production ) সর্বকালীন রেকর্ড ছাপিয়ে ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। গত আর্থিক বছরের তুলনায় বৃদ্ধির হার ১৫.৬ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ১.৫৪ লক্ষ কোটি টাকা ছিল প্রতিরক্ষা উৎপাদন। অন্যদিকে ২০২০-২১ অর্থবর্ষের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ৮৪,৬৪৩ কোটি টাকার তুলনায় বৃদ্ধির হার ১১০ শতাংশ।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্রর উৎপাদন বেড়েছে প্রায় চার গুণ। এর আগে ২০১৩-১৪ আর্থিক বছরে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ছিল মাত্র ৪৩,৭৪৬ কোটি টাকায়। সেখান থেকে বর্তমানে ১.৭৮ লক্ষ কোটির উৎপাদন সত্যিই ঐতিহাসিক সাফল্য। এই সাফল্যের নেপথ্যে সরকার এবং বেসরকারি উভয় খাতই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। সাম্প্রতিক সাফল্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় সাহায্যে চলা প্রতিষ্ঠানের অবদান মোট উৎপাদনের প্রায় ৭৬ শতাংশ। অন্যদিকে বেসরকারি খাতের অবদান ২৪ শতাংশ। যা ২০২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব প্রায় ৪২,০০০ কোটি টাকা সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ভারতে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে সমাজমাধ্যমে উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। এই সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কৃতিত্ব দেন তিনি। রাজনাথের কথায়, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনুপ্রেরণামূলক নেতৃত্বে প্রত্যেক বছর ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন নতুন নতুন মাইলফলক অর্জন করছে।” যোগ করেন, এই অর্জন প্রমাণ করে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প সম্প্রসারিত হচ্ছে। ধারাবাহিক নীতিগত সহায়তা, নতুন নতুন উদ্যোগ, বেসরকারি সংস্থাগুলি বর্ধিত অংশগ্রহণ এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি আগামী বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতের গতি আরও ত্বরান্বিত করবে।
