সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতের পরিচ্ছন্নতম শহর ইন্দোরে (Indore) নলবাহিত জল পান করে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দশ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও সরকারি হিসেব এখনও জানানো হয়নি। হাসপাতালে ভর্তি প্রায় দুই হাজার মানুষ। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। বিজেপিশাসিত রাজ্যটির এই শহরের বাসিন্দাদের প্রশ্ন, কেন এত বেশি কর দেওয়ার পরও এই পরিস্থিতিতে পড়তে হল।
মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের নির্দেশে ইন্দোর পুর কর্পোরেশনের জনস্বাস্থ্য ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ইনচার্জ সাব-ইঞ্জিনিয়ার শুভম শ্রীবাস্তবকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং জোনাল অফিসার শালিগ্রাম সিটোলে এবং সহকারী ইঞ্জিনিয়ার যোগেশ জোশীকেও বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রধান চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "আজ পর্যন্ত, ৭ হাজার ৯৯২টি বাড়িতে সমীক্ষা করা হয়েছে। যেখানে প্রায় ৩৯ হাজার ৮৫৪ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ জন ৪৫৬ জন রোগীর দেহে সংক্রমণ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁদেরকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়েছে। ২১২ জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যার মধ্যে ৫০ জন রোগীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৬২ জন এবং আইসিইউতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৬ জন।"
ভাগীরথপুরা এলাকার এই ঘটনার তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। আইএএস অফিসার নবজীবন পানওয়ারের নেতৃত্বে এই প্যানেলে রয়েছেন সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার প্রদীপ নিগম এবং মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল (এমজিএম) মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক শৈলেশ রাই। গত আগস্ট মাসে, এই এলাকায় নতুন জল সরবরাহ লাইনের জন্য জারি করা টেন্ডার শেষ করতে দেরি হওার কারণ তদন্ত করবে এই প্যানেল।
ইন্দোরের ভগীরথপুরা এলাকায় নলবাহিত জল পান করে একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়েন অসংখ্য মানুষ। মৃতদের মধ্যে রয়েছে একরত্তি শিশুও। জানা গিয়েছে, নলবাহিত জলে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। জলের স্বাদও ছিল কটু। কিন্তু অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এত বেশি কর দিয়েও কেন সরকারি পরিষেবার এই হাল। কিন্তু কী কারণে পানীয় জলে বিষক্রিয়া হল? পুর কমিশনার দিলীপ কুমার যাদব জানিয়েছেন, এলাকার মূল জল সরবরাহের পাইপলাইনে একটি লিকেজ শনাক্ত করা গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সেই পাইপলাইনের কাছেই সম্প্রতি একটি শৌচাগার নির্মাণ করা হয়। অনুমান, সেখান থেকেই পানীয় জলে বিষক্রিয়া হয়েছে।
মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। আপাতত সকলকে জল ফুটিয়ে খাওয়ার আর্জিও জানানো হয়েছে।
