সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: জনতার রায়ে নয়, কয়েকজন ব্যক্তির চক্রান্তে তাঁকে লোকসভা থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। এমনই বার্তা দিয়ে ফের রাজনীতির ময়দানে ফিরে আসার 'হুমকি' দিলেন কলঙ্কিত প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ ব্রিজভূষণ যাদব। তাঁর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলেছিলেন অলিম্পিক, এশিয়ান গেমসে পদকজয়ী মহিলা কুস্তিগিররা। যা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। তবে এবার ব্রিজভূষণের দাবি, তিনি আবারও ফিরে আসবেন লোকসভায়।
বছরের প্রথম দিনেই হুঙ্কার ছাড়লেন ব্রিজভূষণ। একটি পডকাস্টে তিনি বলেন, "যদি আমি বেঁচে থাকি, তা হলে আবার লোকসভায় যাব। আমি বিজেপির টিকিটেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চেষ্টা করব। যদি দল টিকিট না দেয়, তা হলে আমি নির্দল প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। কিন্তু যদি আমি বেঁচে থাকি, তা হলে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবই। যেখান থেকে আমাকে অপমান করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেখানে ফিরব।" প্রাক্তন সাংসদের আশা, মৃত্যুর আগে অন্তত একবার তিনি লোকসভায় নির্বাচিত হবেন।
উত্তরপ্রদেশের কাইজারগঞ্জ থেকে দীর্ঘদিন সাংসদ ছিলেন ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের প্রাক্তন প্রধান। উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতেও তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী। কিন্তু ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া কুস্তিগিরদের আন্দোলনে ব্রিজভূষণের অস্বস্তি বাড়তে থাকে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ব্রিজভূষণের গোঁ সত্ত্বেও তাঁকে টিকিট দেয়নি বিজেপি। তাঁর পুত্র করণ ভূষণকে কাইজারগঞ্জে প্রার্থী করা হয়। জিতে যান করণ।
কিন্তু ব্রিজভূষণ এখনও সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরতে মরিয়া। পরোক্ষে দলের উপর চাপ তৈরির কৌশল করলেন প্রাক্তন সাংসদ। বিজেপিকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। সাফ জানিয়েছেন, জনতার রায়ে তাঁর সাংসদ পদ যায়নি। অপমান করে তাঁকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জনাদেশের জোরেই আবার ফিরবেন লোকসভায়। বর্তমানে সাংসদ না থাকলেও স্থানীয় রাজনীতিতে ব্রিজভূষণ যথেষ্ট প্রভাবশালী। ফলে তিনি নতুন দল তৈরি করলেও সাড়া পেতে পারেন বলে বিশ্লেষকদের অনুমান। সেক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির পক্ষে সমস্যা বাড়তে পারে।
