যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্য। সেই আঁচে ঝলসে গেল শেয়ার বাজারও। সপ্তাহের প্রথম দিন বাজার খুলতেই সেনসেক্স পড়ে যায় দু 'হাজার পয়েন্টেরও বেশি। কেবল ভারত নয়, বিশ্বের সব প্রান্তের শেয়ার বাজারেরই বেহাল দশা ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধের জেরে। সেই সঙ্গে পড়েছে টাকার দাম। যুদ্ধের সময়ে চড়চড়িয়ে বাড়ছে তেলের দাম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, অন্তত একমাস ধরে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাবে তাঁর দেশ। ততদিন পর্যন্ত শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীরা লাভের মুখ দেখবেন না বলেই আশঙ্কা।
শনিবার থেকে শুরু হয়েছে যুদ্ধ। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে। তিনদিন ধরে লাগাতার আক্রমণ চলছে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে। তার প্রভাব দালাল স্ট্রিটে পড়বে সেকথা অনুমেয় ছিলই। কিন্তু বাজার খুলতেই সেনসেক্স এবং নিফটি এতখানি নেমে যাবে, আন্দাজ করতে পারেননি বিনিয়োগকারীরা। সোমবার বাজার খোলে ৭৮৫৪৩.৭৩ পয়েন্টে। অর্থাৎ শুক্রবার বাজার বন্ধের সময়ে সেনসেক্সের যা সূচক ছিল তার থেকে ২৭৪৩ পয়েন্ট কম। ৩.৪ শতাংশ পড়ে যায় সূচক। নিফটির সূচকও নেমে যায় ৫০০ পয়েন্টের বেশি। তবে বেলা বাড়তে ধীরে ধীরে ধাক্কা সামলে এগোচ্ছে বাজার। যদিও লাভের আশা দেখছেন না বিনিয়োগকারীরা।
হুড়মুড় করে শেয়ার বিক্রি করে ফায়দা তোলাটাও খুব একটা লাভজনক হবে না। অতীত উদাহরণ টেনে বিশ্লেষকরা বলছেন, কোভিড অতিমারী হোক বা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ-প্রাথমিক আতঙ্ক কেটে গেলেই বাজার ফের উর্ধ্বমুখী হয়েছে।
কেবল ভারতের শেয়ার বাজার নয়, বিশ্বব্যাপী বাজারেও যুদ্ধের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। সোমবার ৪০০ পয়েন্ট পড়ে যায় মার্কিন শেয়ার বাজার। জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার পড়ে গিয়েছে ২ থেকে ৩ শতাংশ পয়েন্ট। হংকং, চিনের বাজারেও হতশ্রী দশা। যুদ্ধের আবহে আবু ধাবি এবং দুবাইয়ের বাজার আগামী দু'দিন বন্ধ থাকবে বলে জানা গিয়েছে। যুদ্ধের বাজারে চড়চড়িয়ে বাড়ছে তেলের দামও। আগামী দিনে হরমুজ প্রণালী যদি পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে তেলের দাম আকাশ ছোঁবে। তাতে ভারতের সমস্যা আরও বাড়বে।
এহেন পরিস্থিতিতে কী করবেন বিনিয়োগকারীরা? বিশ্লেষকদের মতে, আপাতত বড় লাভের আশা না করাই ভালো। খুব সতর্ক থেকে ট্রেডিং করতে হবে। তবে হুড়মুড় করে শেয়ার বিক্রি করে ফায়দা তোলাটাও খুব একটা লাভজনক হবে না। অতীত উদাহরণ টেনে বিশ্লেষকরা বলছেন, কোভিড অতিমারী হোক বা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ-প্রাথমিক আতঙ্ক কেটে গেলেই বাজার ফের উর্ধ্বমুখী হয়েছে। সেকথা মাথায় রেখেই বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
