আমেরিকা ও ইরানের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। এর প্রতিবাদে কাশ্মীরে পথে নেমেছেন বহু মানুষ। রবিবার শ্রীনগরে রাষ্ট্রসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীর (UNMOGIP) সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখান বিশাল সংখ্যক উত্তেজিত জনতা। তাঁরা আমেরিকা ও ইজরায়েল বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। নিহত খামেনেইর ছবি হাতে মিছিল করেন তাঁরা। শ্রীনগর ছাড়াও ভূস্বর্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিক্ষোভের খবর আসছে। এই অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শ্রীনগরের ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করল প্রশাসন।
দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর শনিবার ইরানের মাটিতে মারণ হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। যৌথ হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেই-সহ শীর্ষ আধিকারিকদের। পাশাপাশি শতাধিক সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এই হামলায়। এর প্রতিবাদে সরব হয়েছে মুসলিম বিশ্বের একাংশ। আমেরিকা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন তাঁরা। বিক্ষোভে উত্তাল কাশ্মীরও। গুজব থেকে প্রতিবাদ হিংসাত্মক হয়ে উঠতে পারে, সেই কথা মাথায় রেখেই শ্রীনগরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়াও অশান্তি এড়াতে আগামি দু'দিন বন্ধ থাকছে স্কুল ও কলেজ। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা নাগরিকদের প্ররোচনায় পা দিতে বারণ করেছেন, শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, শনিবার ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে তেহরান-সহ ইরানের একাধিক অঞ্চল। হামলায় মৃত্যু হয়েছে খামেনেইয়ের। পালটা জবাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার একাধিক সেনাঘাঁটি ও ইজরায়েলে হামলা চালায় ইরান সেনা। ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান। সেইমতো নতুন করে রবিবার হামলা চালানো হয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে।
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে আবুধাবিতে একটি নৌসেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও, কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এসবের মাঝেই আমেরিকার নৌসেনার গর্বের আব্রাহিম লিঙ্কনে হামলা চালাল ইরান। অন্যদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইজরায়েলে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর।
