মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকট। এক ধাক্কায় অনেকটা ভাড়া বাড়াল এয়ার ইন্ডিয়া (Air India Fare Hike)। জানা গিয়েছে, জ্বালানির সারচার্জ বৃদ্ধি করার ফলেই বিমান ভাড়ার উপরে প্রভাব পড়েছে। অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক সব রুটেই ভাড়াবৃদ্ধি হয়েছে।
বিমান সংস্থাটি এবার একক ফি-এর বদলে দূরত্বভিত্তিক জ্বালানি সারচার্জ চালু করছে। অর্থাৎ, এখন থেকে যাত্রীরা কত দূরত্ব ভ্রমণ করছেন, তার ওপর নির্ভর করেই অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ০-৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্বল্প দূরত্বের বিমানে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে ২৯৯ টাকা, ৫০১-১০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত সফরে সারচার্জের পরিমাণ ৩৯৯ টাকা, ১০০১-১,৫০০ কিলোমিটার দূরত্বে যাত্রীদের দিতে হবে ৫৪৯ টাকা, ১৫০১-২০০০ কিলোমিটার দূরত্বে সারচার্জের পরিামাণ ৭৪৯ টাকা এবং ২০০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে সর্বোচ্চ ৮৯৯ টাকা সারচার্জ ধার্য করা হয়েছে। আগামী ৮ এপ্রিল সকাল ৯টা ১ মিনিট থেকেই এই নতুন হার কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক উড়ানের ক্ষেত্রে সার্ক গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলিতে যাওয়ার জন্য খরচ পড়বে ২৪ মার্কিন ডলার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় ২০০০ টাকার কিছু বেশি। পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যে সারচার্জের পরিমাণ বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫০ ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় ৪৫০০ টাকার কিছু বেশি। চিন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সফরের জন্য সারচার্জের পরিমাণ বাড়িয়ে করা হয়েছে ১০০ ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯৫০০ টাকার কাছাকাছি। আফ্রিকার দেশগুলিতে সফরে সারচার্জ করা হয়েছে ১৩০ ডলার বা ১২ হাজার টাকার কিছু বেশি। ইউরোপের দেশগুলিতে সফরে সারচার্জ দিতে হবে ২০৫ ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৯০০০ হাজার টাকা। তবে সবচেয়ে বেশি সারচার্জ ধার্য করা হয়েছে উত্তর আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দূরপাল্লার রুটে। যেখানে যাত্রীদের দিতে হবে ২৮০ ডলার বা প্রায় ২৬,০৪০ টাকা। এই সংশোধিত হার ৮ এপ্রিল থেকেই কার্যকর হবে। তবে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে তা কার্যকর হবে ১০ এপ্রিল থেকে।
উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের জেরে ভারত-সহ গোটা বিশ্বের জ্বালানি কাঁচি পড়েছে। যার জেরে জ্বালানির মূল্য ব্যাপক বেড়েছে। দাবি করা হচ্ছে, গোটা পরিস্থিতির জেরে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে উড়ান সংস্থাগুলিকে। এই অবস্থায় বিমান ভাড়া বাড়ানোর পথে হাঁটল এয়ার ইন্ডিয়া।
