যুদ্ধের আগুনে হরমুজ প্রণালী (Strait Of Hormuz) পেরিয়ে দেশে প্রবেশ করল ভারতের এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘শিবালিক’। সোমবার গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে সেটি নোঙর করেছে। সূত্রের খবর, দ্বিতীয় ট্যাঙ্কার ‘নন্দা দেবী’ও হরমুজ পেরিয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবারই সেটি মুম্বইয়ের বন্দরে নোঙর করবে বলে খবর। গোটা বিষয়টিকে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক জয় হিসাবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে 'আহত' ইরান। তেহরানের তরফে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার এক লিটার তেলও বাইরে যাবে না। যদিও চিন ও রাশিয়াকে হরমুজ ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়েছে ইরান। কিন্তু প্রাথমিকভাবে ভারতকে সে সুযোগ দেওয়া হয়নি। দেশে জ্বালানি সংকট নেই বলে কেন্দ্রের তরফে বার্তা দেওয়া হলেও জ্বালানি-গ্যাসের অভাব ও মূল্যবৃদ্ধি নজরে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসিকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অন্যদিকে, গত দুই সপ্তাহে অন্তত চারবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর কথা বলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সইদ আব্বাস আরাঘাচির সঙ্গে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাতেই কূটনৈতিক জয় হয়েছে নয়াদিল্লির।
সূত্রের খবর, হরমুজের উভয় প্রান্তে এখনও দু'ডজনেরও বেশি ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের আটকে রয়েছে। সেগুলি যাতে নিরাপদে হরমুজ পেরোতে পারে তার জন্য ইরানের সঙ্গে আলোচনায় চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, "ভারতীয় পতাকাবাহী পেট্রোল ট্যাঙ্কার 'জগপ্রকাশ' ইতিমধ্যেই হরমুজের পূর্ব দিক থেকে যাত্রা শুরু করেছে।"
প্রসঙ্গত, দেশে গ্যাসের সংকটের মধ্যে 'শিবালিক' এবং ‘নন্দা দেবী’তে রয়েছে আনুমানিক ৯২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন গ্যাস। বর্তমান পরিস্থিতিতে এগুলি অমূল্য বললে ভুল বলা হয় না।
