সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্লোগান। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের পথে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দাবিতে দিল্লি পুলিশকে চিঠি লিখল জেএনইউ।
জানা যাচ্ছে, ক্যাম্পাসে উসকানিমূলক ও আপত্তিকর স্লোগানের বিরুদ্ধে পুলিশ যাতে এফআইআর দায়ের করে সেই আর্জি জানিয়ে চিল্লির বসন্তকুঞ্জ থানাকে চিঠি লিখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ্য নিরাপত্তা আধিকারিক। চিঠিতে লেখা হয়েছে, 'ক্যাম্পাসে রাষ্ট্রনেতাদের বিরুদ্ধে যে স্লোগান তোলা হয়েছে তা গণতান্ত্রিক ভিন্নমতের সঙ্গে একেবারেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। একইসঙ্গে এই আচরণ জেএনইউ-র আচরণবিধি লঙ্ঘন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা, সম্প্রীতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক। এই স্লোগান দিচ্ছিল স্বতঃস্ফূর্ত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে তোলা হয়নি বরং সচেতনভাবেই এই কাজ করা হয়েছে।' পাশাপাশি যারা স্লোগান দিচ্ছিল সেই সব পড়ুয়ার নামও উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।
২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গায় অভিযুক্ত উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিনের আবেদন সোমবার খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, ওই দাঙ্গার ঘটনায় ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা ও দাঙ্গা সংগঠিত করার ক্ষেত্রে খালিদ এবং ইমামের কেন্দ্রীয় ভূমিকা ছিল। যদিও তাঁদের সঙ্গে জেলবন্দি বাকি ৫ জনকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। খালিদের জামিন খারিজ হওয়ার পর, সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে জেএনইউ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে সেখানকার পড়ুয়ারা। স্লোগান তোলা হয়, ‘জেএনইউ কী ধরতী পর মোদি-শাহ কী কবর খুদেগী।’ অর্থাৎ ‘জেএনইউ-এর মাটিতেই মোদি-শাহের কবর খোঁড়া হবে।’ মুহূর্তের মধ্যে সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় এই স্লোগান।
মোদি বিরোধী এই স্লোগানে যারপরনাই ক্ষুব্ধ বিজেপিও। মঙ্গলবার সকালে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং বলেন, “জেএনইউ টুকরে টুকরে গ্যাং, আরজেডি, তৃণমূল, বাম দল ও রাহুল গান্ধীর মতো দেশবিরোধী মানসিকতার লোকের কার্যালয় হয়ে উঠেছে। ওদের মনে রাখা উচিত এটা ভারত এবং একবিংশ শতাব্দীর নরেন্দ্র মোদির ভারত। বিবেকানন্দ বলেছিলেন গেরুয়া রং-ই থাকবে। আমি এইসব টুকরে টুকরে গ্যাংকে বলতে চাই, যারা উমর খালিদ ও শরজিল ইমামকে সমর্থন করে, যারা পাকিস্তানের মানসিকতায় বিশ্বাস করে যারা চিকেন নেক আলাদা করার কথা বলে, তাঁরা দেশদ্রোহী।”
