সামনের মাসেই বাণিজ্যচুক্তিতে সই করবে ভারত এবং আমেরিকা। বৃহস্পতিবার এ কথা জানালেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি জানান, বাণিজ্যচুক্তির খসড়া এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আপাতত তা নিয়েই কাজ চলছে। তা চূড়ান্ত হয়ে গেলেই মার্চে তাতে সই করবে দুই দেশ। তার আগে আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে দুই দেশ যৌথ বিবৃতি দেবে বলেও জানিয়েছেন পীযূষ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পরে গত সোমবার রাতে (ভারতীয় সময়) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যসমঝোতার কথা ঘোষণা করেন। ভারতীয় পণ্যের উপর যে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে রেখেছিল আমেরিকা, তা কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার কথা ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু এই বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে নানা ধোঁয়াশা তৈরি হয় প্রাথমিক ভাবে। রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্য গত বছর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। তা আদৌ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। পরে হোয়াইট হাউস জানায়, সেই ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কও প্রত্যাহার করা হবে।
ট্রাম্পই বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা করতে গিয়ে দাবি করেছিলেন, ভারত আর রাশিয়ার থেকে তেল না কেনার শর্তে রাজি হয়েছে। যদিও নয়াদিল্লির তরফে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সমর্থন এখনও মেলেনি। ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ রাশিয়াও জানিয়েছে, তাদের থেকে তেল না কেনার ব্যাপারে এখনও কিছু জানায়নি ভারত। তবে নয়াদিল্লির একটি সূত্র দাবি করেছেন, যে সব দেশের তেলে নিষেধাজ্ঞা নেই, ভারত সেই সব দেশ থেকে তেল কিনতেই পারে দেশের বিপুল চাহিদা মেটানোর জন্য। ঘটনাচক্রে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই রুশ তেলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে ওয়াশিংটন। কিন্তু রাশিয়ার থেকে আর তেল কেনা হবে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও বিবৃতি দেয়নি মোদি সরকার। এ দিকে, হোয়াটই হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট দাবি করেছেন, রাশিয়া থেকে পুরোপুরি ভাবে তেল আমদানি বন্ধের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কথা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে খুবই ভাল ও ফলপ্রসূ কথাবার্তা হয়েছে। চুক্তিতে তাঁরা সিলমোহর দিয়েছেন রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে আমেরিকা ও ভেনেজ়ুয়েলা থেকে আরও বেশি তেল কেনার বিষয়ে ভারত রাজি হওয়ার পর।”
প্রসঙ্গত, বুধবারই ওয়াশিংটনে আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। পাশাপাশি, তিনি দেখা করছেন আমেরিকার রাজস্ব সচিব স্কট বেসেন্টের সঙ্গেও। সূত্রের খবর, উভয় পক্ষের কথা হয়েছে বাণিজ্যচুক্তি পরবর্তী শক্তিক্ষেত্র, পারমাণবিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, দুর্লভ খনিজ সম্পদ, প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে। জয়শংকর স্পষ্ট জানিয়েছেন, দুই গণতান্ত্রিক দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারি এখন আরও গভীর ও কৌশলগত পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে দুর্লভ খনিজ সম্পদের সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বৈঠকের পর এক্স হ্যান্ডলে বিদেশমন্ত্রী লিখেছেন, অর্থনৈতিক অংশীদারি ও কৌশলগত সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যেতে ‘উপকারী আলোচনা’ হয়েছে।
