দুই সাংসদের বিবাদ নতুন নয়। দলের ভরাডুবির পর সেই ফাটল আরও চওড়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে প্রকাশ্যে এসেছে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের লেটার হেডে লেখা একটি চিঠি। সেখানে লোকসভার স্পিকারের কাছে কল্যাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের অনুমতি চেয়েছেন কাকলি। লোকসভার ভিতরে তাঁকে বার বার মৌখিক হেনস্থা করেছেন কল্যাণ। শ্রীরামপুরের সাংসদের বিরুদ্ধে অভব্য আচরণের অভিযোগ তুলেছেন। চিঠিতে কাকলি উল্লেখ করেছেন, তিনি একা নন, অন্য মহিলা সাংসদের সঙ্গেও আপত্তিকর আচরণ করেছেন কল্যাণ। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গালিগালাজ, অভব্য আচরণের অভিযোগ তুলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছিলেন তাঁরই একদা সতীর্থ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এই অভিযোগ যদি লোকসভার স্পিকার প্রিভিলেজ কমিটি বা এথিক্স কমিটিতে পাঠান, তাহলে সাসপেন্ডও হতে পারেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়! ঘটনাচক্রে, কল্যাণ নিজেই এই প্রিভিলেজ কমিটির সদস্য।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সাংসদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ জমা পড়লে স্পিকার যদি মনে করেন তা প্রিভিলেজ কমিটির কাছে পাঠাতে পারেন। এরপর বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঘটনার অনুসন্ধান করবে কমিটিই। নিয়ম বলছে, প্রিভিলেজ কমিটিতে অভিযোগ গেলে দু'পক্ষকেই ডেকে তাঁদের বয়ান শোনা হবে। তার ভিত্তিতেই রিপোর্ট তৈরি করবে কমিটি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হতে পারে, তাও সুপারিশ করা হবে। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করবেন স্পিকারই।
কয়েকদিন ধরেই বেসুরো। সম্প্রতি কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেন বারাসতের সাংসদ। বুধবার রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে পাঠানো চিঠিতে শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। সেই আবহেই কল্যাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে স্পিকারের দ্বারস্থ হয়েছেন কাকলি।
