shono
Advertisement
Karnataka

'বাপের বাড়ি যেতে স্বামীর অনুমতির প্রয়োজন নেই', নির্দেশ কর্নাটক হাই কোর্টের

স্ত্রী ও কন্যার ভরণপোষণ বাবদ ওই ব্যক্তিকে মাসে ৯০০০ টাকা দেওয়ার নির্দেশ বহাল রেখেছে কর্নাটক হাই কোর্ট। পাশাপাশি এই মামলায় ৩টি বিষয় তুলে ধরেছে আদালত।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 03:51 PM Aug 25, 2026Updated: 07:07 PM Aug 25, 2026

বৈবাহিক সম্পর্ক অর্থ স্ত্রীর স্বাধীনতা হরণ বা স্বামীর বশ্যতা নয়। ফলে বাপের বাড়ি যাওয়ার জন্য স্বামীর অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই স্ত্রীর। সম্প্রতি এক মামলার শুনানিতে এমনটাই জানাল কর্নাটক হাই কোর্ট। একইসঙ্গে আদালতে জানিয়েছে, বাবা-মায়ের দেখভাল বা বাড়ির কাজ করতে স্ত্রীকে বাধ্য করতে পারেন না স্বামী।

Advertisement

কর্নাটকের (Karnataka) তুমাকুরুর এক পারিবারিক আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক ব্যক্তি। পারিবারিক আদালতের তরফে ওই ব্যক্তিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, স্ত্রী ও নাবালিকা কন্যার ভরণপোষণের জন্য তাঁকে মাসে ৯০০০ টাকা করে দিতে হবে। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাই কোর্টে নিজের আবেদনে ব্যক্তি বলেন, তাঁর স্ত্রী বাড়ির কাজ করতেন না এবং এমনকি তাঁর শ্বশুর-শাশুড়িরও যত্ন নিতেন না। ইচ্ছেমতো বাপের বাড়ি চলে যেতেন। ফলে ভরণপোষণের অর্থ কমানো হোক। তবে ওই ব্যক্তির আবেদন গ্রাহ্য হয়নি হাই কোর্টেও।

স্বামী কখনই তাঁর স্ত্রীর উপর নিজের ইচ্ছে বা প্রত্যাশা চাপিয়ে দিতে পারেন না। বিবাহ কোনওভাবেই স্ত্রীর স্বাধীনতা, ইচ্ছেকে নিয়ন্ত্রণ বা দমন করার অধিকার দেয় না।

সোমবার বিচারপতি ডঃ চিল্লাকুর সুমালাথার বেঞ্চে মামলাটি উঠলে বিচারপতি বলেন, পিতা-মাতার যত্ন নেওয়ার প্রাথমিক দায়িত্ব পুত্র ও কন্যার উপর বর্তায়। জামাতা বা পুত্রবধূর উপর নয়। পাশাপাশি আদালত আরও জানায়, "আমরা বুঝতে পারছি না কেন একজন মহিলাকে তাঁর কোনও ইচ্ছাপূরণের জন্য শ্বশুরবাড়ির সকলের থেকে অনুমতি নিতে হবে। যখন খুশি তিনি তাঁর বাবা-মায়ের কাছে যেতে পারেন।" এমনকী বাড়ির কাজ নিয়ে ওই ব্যক্তির অভিযোগের পালটা আদালত জানায়, "স্বামী বা অন্য কেউ কোনও মহিলাকে বা তাঁর স্ত্রীকে বাড়ির কাজ বা তাঁর পিতামাতার যত্ন নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশ দিতে পারে না। বাড়ির কাজ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা উচিত।"

স্ত্রী ও কন্যার ভরণপোষণ বাবদ ওই ব্যক্তিকে মাসে ৯০০০ টাকা দেওয়ার নির্দেশ বহাল রেখেছে কর্নাটক হাই কোর্ট। পাশাপাশি এই মামলায় ৩টি বিষয় তুলে ধরেছে আদালত। প্রথমত, স্বামী কখনই তাঁর স্ত্রীর উপর নিজের ইচ্ছে বা প্রত্যাশা চাপিয়ে দিতে পারেন না। বিবাহ কোনওভাবেই স্ত্রীর স্বাধীনতা, ইচ্ছেকে নিয়ন্ত্রণ বা দমন করার অধিকার দেয় না। দ্বিতীয়ত, পরিবারের প্রতি স্ত্রীর নিষ্ঠা কখনও আনুগত্য ও বশ্যতা দিয়ে মাপা যায় না। এবং তৃতীয়ত, শুধুমাত্র মহিলা হওয়ার জন্য তাঁর স্বাধীনতা হরণ বা সীমিত করার যে কোনও প্রচেষ্টা তাঁর অধিকারের পরিপন্থী।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement