সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ১ ডিসেম্বর থেকে সংসদের শীতকালীন অধিবেশেন শুরু হচ্ছে। চলবে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তার মধ্যে কর্মদিবস মাত্র ১৫টি। অন্যান্য অধিবেশনের তুলনায় এবারে অনেক কম দিন বরাদ্দ করা হয়েছে। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা। এবার পালটা দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও।
তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন ‘এক্স’ হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তাঁর টিম বিশেষ রোগে আক্রান্ত, যার নাম সংসদ-ভীতি, সংসদে মুখোমুখি হওয়ার ভীতি। ১৫ দিনের শীতকালীন অধিবেশন। সন্দেহের উদ্রেক করছে।’ তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সংসদের অধিবেশনে ক্রমশ ছোট হয়েছে। নিজের বক্তব্যের সপক্ষে তিনি রীতিমতো পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।" কংগ্রেসের জয়রাম রমেশও একই সুরে সরকারকে বিঁধতে ছাড়েননি। তিনি প্রশ্ন তুলছেন, "সরকারের হাতে কি বিতর্কের জন্য কোনও বিল, বা ইস্যু নেই? নাকি দিল্লির দূষণের ভয়ে সংক্ষিপ্ত করা হচ্ছে অধিবেশন? আমার মনে হয় সরকার শুধু নামমাত্র অধিবেশন করে কাজ সারতে চাইছে। ব্যাপারটা অদ্ভুত লাগছে।"
পালটা এসেছে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর কাছ থেকে। তিনি কটাক্ষ করে বলছেন, "কংগ্রেস এমন ভাব করছে যেন ওরা সংসদ অধিবেশন চালাতে খুবই আগ্রহী। আমি বারবার কংগ্রেসের কাছে অনুরোধ করেছি, অধিবেশন চলতে দিন। যে সব সাংসদরা কাজ করতে চায় তাঁদের বাধা দেবেন না। আবারও একই অনুরোধ করব। দয়া করে সংসদে কাজটা হতে দিন।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাদল অধিবেশনের মতোই এবারও এসআইআর ইস্যুতে তপ্ত হতে পারে সংসদ। এসআইআর নিয়ে এবার তৃণমূল কংগ্রেস তোলপাড় করতে পারে অধিবেশন। বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের প্রভাব পড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে অধিবেশনে। বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে পারেন। অন্য দিকে, মোদি সরকারের তরফে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। তালিকায় রয়েছে সংবিধানের ১২৯ ও ১৩০তম সংশোধনও। পাবলিক ট্রাস্ট বিল, ইনসলভেন্সি ও দেউলিয়া বিলও পাস করানোর চেষ্টা করবে সরকারপক্ষ। শীতকালীন অধিবেশনে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের আসনে বসবেন দেশের নতুন উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন, যিনি সেপ্টেম্বর মাসেই শপথ নেন।
