shono
Advertisement

Breaking News

TMC

এবার টার্গেট 'তৃণমূল' নাম, এনডিএতে মিশে গেলেই মন্ত্রী সুদীপ! কী মন্তব্য সাংসদের?

এনডিএ শিবিরে বর্তমানে বিজেপির পর দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক এনসিপিআই। ফলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সুদীপের জায়গা হতে পারে বলেও জল্পনা শুরু হয়েছে।
Published By: Kousik SinhaPosted: 08:58 AM Jun 16, 2026Updated: 08:58 AM Jun 16, 2026

বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই কি লোকসভার অন্দরে শুরু হবে 'তৃণমূল বনাম তৃণমূল'-এর লড়াই? দিল্লির রাজনৈতিকমহলে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সেই প্রশ্নই। আর সেই জল্পনার কেন্দ্রে রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং তৃণমূলের বিদ্রোহী মুখ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। 

Advertisement

সুদীপের বক্তব্য, “২০ জুলাই সংসদ অধিবেশন শুরু হবে। তখন তৃণমূল কংগ্রেসের নামে একটি দল আসবে। আমাদেরও বলার থাকবে, আমরাই তৃণমূল কংগ্রেস। গোনা হোক।”

সূত্রের খবর, গত শনিবার দিল্লিতে শাহের সঙ্গে প্রায় সত্তর মিনিটের বৈঠকে বিদ্রোহী সাংসদদের ভবিষ্যৎ রণকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেখানেই তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীকের প্রসঙ্গ উঠলে শাহ নাকি স্পষ্ট বার্তা দেন-বাংলার মানুষ জোড়াফুল প্রতীকের উপর আস্থা হারিয়েছে। তাই প্রতীক নিয়ে আইনি লড়াইয়ে শক্তি নষ্ট না করে 'তৃণমূল' নামের রাজনৈতিক গুরুত্বকেই সামনে রাখা উচিত। সেই পরামর্শ মেনেই আপাতত প্রতীকের প্রশ্নে সংঘাতে না গিয়ে দলীয় নামের দাবিকে অস্ত্র করতে চাইছে বিদ্রোহী শিবির। সোমবার দিল্লিতে কার্যত সেই কৌশলেরই ইঙ্গিত দিলেন সুদীপ। তাঁর বক্তব্য, “২০ জুলাই সংসদ অধিবেশন শুরু হবে। তখন তৃণমূল কংগ্রেসের নামে একটি দল আসবে। আমাদেরও বলার থাকবে, আমরাই তৃণমূল কংগ্রেস। গোনা হোক।” একই সঙ্গে তাঁর দাবি, শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কের নিষ্পত্তি আদালতেই হবে। এমনকি তাঁর অনুমান, আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন জোড়াফুল প্রতীকও 'ফ্রিজ' হয়ে যেতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে লোকসভা সচিবালয়ের অন্দরেও। সূত্রের খবর, বাদল অধিবেশনে দুই পক্ষই নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করলে তা সামাল দেওয়ার সংসদীয় ও আইনি পথ কী হবে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের মতামত চাওয়া হতে পারে। দলীয় পরিচয়, আসন বিন্যাস থেকে শুরু করে সংসদীয় স্বীকৃতি-একাধিক জটিল প্রশ্ন সামনে চলে আসতে পারে। দিল্লি পর্ব শেষ করে এদিন সুদীপ বলেন, "প্রথম পর্যায় সমাপ্ত। এবার যা কিছু হবে, কলকাতায় ফিরে যাওয়ার পর।" তবে এখনই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। আপাতত তাঁরা এনসিপিআই-তেই থাকছেন এবং দলত্যাগ বিরোধী আইনের জটিলতা এড়াতে এই পথ বেছে নেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি। একই সঙ্গে খানিক রসিকতার সুরে বলেন, "এই দলের নাম আগে কোনও দিন শুনিনি।"

এনডিএ শিবিরে বর্তমানে বিজেপির পর দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক এনসিপিআই। ফলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সুদীপের জায়গা হতে পারে বলেও জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও তা উড়িয়ে দিয়ে তাঁর মন্তব্য, "প্রতিমন্ত্রী হওয়ার খবর সর্বৈব অসত্য।" নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির কৃতিত্বও নিজের কাঁধে নিতে চাননি তিনি। বরং দাবি করেছেন, "আমি কুড়িতম সাংসদ হিসেবে স্বাক্ষর করেছি। কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শতাব্দী রায়ই এই প্রক্রিয়ায় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন।" আগামী ২১ জুলাই শহিদ দিবসের ঠিক আগের দিন শুরু হতে চলা বাদল অধিবেশনের আগে তাই রাজনৈতিক মহলের নজর এখন একটাই প্রশ্নে-লোকসভার অন্দরেই কি শুরু হতে চলেছে 'আসল তৃণমূল' নিয়ে শক্তিপরীক্ষা? 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement