Advertisement
বসন্তের দাপট রুখবে ৭ সবজি, চিকেন পক্স ঠেকাতে পাতে রাখুন এদের
শীতের বিদায়বেলা আর বসন্তের আগমনে প্রকৃতির রূপ বদলালেও, এই সময় ঘরে ঘরে হানা দেয় এক পরিচিত আতঙ্ক— চিকেন পক্স। ভ্যারিসেল্লা জস্টার ভাইরাসের প্রকোপে এই সময় শরীরজুড়ে যন্ত্রণাদায়ক ফুসকুড়ি আর জ্বরের দাপট বাড়ে। মূলত বায়ুবাহিত এই রোগ অত্যন্ত ছোঁয়াচে। ছোটদের প্রতিষেধক থাকলেও বড়দের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে সঠিক খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে সেরা বর্ম।
শীতের বিদায়বেলা আর বসন্তের আগমনে প্রকৃতির রূপ বদলালেও, এই সময় ঘরে ঘরে হানা দেয় এক পরিচিত আতঙ্ক— চিকেন পক্স। ভ্যারিসেল্লা জস্টার ভাইরাসের প্রকোপে এই সময় শরীরজুড়ে যন্ত্রণাদায়ক ফুসকুড়ি আর জ্বরের দাপট বাড়ে। মূলত বায়ুবাহিত এই রোগ অত্যন্ত ছোঁয়াচে। ছোটদের প্রতিষেধক থাকলেও বড়দের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি। তাই আগাম সতর্কতা হিসেবে সঠিক খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে সেরা বর্ম।
ঋতু পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে বাতাসে জলীয় বাষ্পের হেরফেরে ভ্যারিসেল্লা ভাইরাস সক্রিয় হয়ে ওঠে। মূলত নিশ্বাস-প্রশ্বাস এবং আক্রান্তের সংস্পর্শে এই রোগ দ্রুত ছড়ায়। একবার পক্স হলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় ঠিকই, কিন্তু ভাইরাস সুপ্ত অবস্থায় থেকে যেতে পারে। তাই বসন্তের শুরুতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোই চিকিৎসকদের প্রধান পরামর্শ।
সজনে ডাঁটার মহৌষধি গুণ: গ্রামবাংলার এই অতি সাধারণ সবজিটি আসলে পক্স প্রতিরোধের অব্যর্থ ওষুধ। মার্চ-এপ্রিল মাসে সজনে ডাঁটা খাওয়ার রেওয়াজ বহু প্রাচীন। এতে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ভাইরাল উপাদান রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে শরীরে কোনও সংক্রমণ সহজে বাসা বাঁধতে পারে না। বিশেষ করে বায়ুবাহিত রোগ ঠেকাতে এর জুড়ি মেলা ভার।
নিম পাতার কবচ: আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে নিম পাতাকে প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক বলা হয়। পক্সের মরশুমে রোজকার পাতে অল্প নিম পাতা ভাজা বা তিতো রাখা জরুরি। এটি শরীরকে ভিতর থেকে শুদ্ধ করে এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা জোগায়। শুধু খাবার নয়, এই সময় নিম পাতা ভেজানো জলে স্নান করলে চর্মরোগ ও সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
হজম সহজ করে বাঁধাকপি: পক্সের কবলে পড়লে হজম শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সময় শরীরকে পুষ্টি জোগাতে এবং পেট হালকা রাখতে বাঁধাকপি অত্যন্ত কার্যকর। এতে থাকা হালকা প্রোটিন ও ফাইবার সহজেই শরীরের সঙ্গে মানিয়ে নেয়। তরল জাতীয় খাবারে বাঁধাকপির ব্যবহার শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে, যা এই রোগের সময় খুবই জরুরি।
গাজরের বিটা-ক্যারোটিন শক্তি: চোখের দৃষ্টি আর ত্বকের জেল্লা ফেরাতেই শুধু নয়, পক্স ঠেকাতেও গাজর অদ্বিতীয়। এতে থাকা প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-এ এবং বিটা-ক্যারোটিন শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ কোষগুলিকে সক্রিয় রাখে। সংক্রমণের হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করতে রোজকার ডায়েটে গাজর রাখা বাঞ্ছনীয়।
করলা বা উচ্ছে: তিতো স্বাদের এই সবজি বসন্তের শুরুতে মহৌষধির কাজ করে। এতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-ভাইরাল উপাদান রক্ত পরিষ্কার রাখে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত উচ্ছে বা করলা ভাতে খেলে ভ্যারিসেল্লা জস্টার ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো অনেক সহজ হয়। এটি লিভারকেও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
পালং শাক: ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং ভিটামিন সি-তে ভরপুর পালং শাক শরীরের কোষগুলোকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শক্তি জোগায়। এতে থাকা প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রক্তে শ্বেত রক্তকণিকার মাত্রা ঠিক রাখে, যা পক্সের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত জরুরি। হালকা রান্না বা সুপ হিসেবে এটি এই সময়ে সেরা পথ্য।
কাঁচা পেঁপে: পেঁপেতে থাকা প্যাপাইন এনজাইম হজম ক্ষমতা বাড়াতে এবং শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। পক্সের সময় শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন সেদ্ধ পেঁপে বা পেঁপের ডালনা শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেয়। এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং ভাইরাসের আক্রমণ প্রতিরোধে শরীরকে ভিতর থেকে প্রস্তুত করে।
আগাম সতর্কতাই শ্রেয়: টিকা নেওয়া থাকলেও অনেক সময় পক্সের ঝুঁকি থেকে যায়। বিশেষ করে যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সাবধানতা জরুরি। মরশুমি শাকসবজি খাওয়ার পাশাপাশি বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা দরকার। বসন্তের শুরু থেকেই খাদ্যাভ্যাসে বদল আনলে এই কষ্টদায়ক ব্যাধি থেকে দূরে থাকা সম্ভব।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 08:07 PM Mar 10, 2026Updated: 08:07 PM Mar 10, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
