এক প্রেম ভাঙার কাহিনিতেই সামনে এল মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রশ্নপত্র 'ফাঁসে'র ঘটনা। ইতিধ্যেই ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে মুম্বই পুলিশ। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন কমিশনের তিন আধিকারিক! ইতিমধ্যে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে পরীক্ষাটি।
পুলিশ সূত্রে দাবি, প্রার্থী ঋতুজা পাটিলের বাবা অমৃত পাটিল মেয়ের জন্য নান্দুরবারের এক কোচিং সেন্টারের পরিচালক প্রবীণ পাটিলের কাছ থেকে ড্রাগ ইনস্পেক্টর পদের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কিনেছিলেন! তদন্তে উঠে আসে, কমিশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রাথমিক ভাবে ৫ লক্ষ টাকার লেনদেন হয়েছিল। এবং মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। কিন্তু কারওই হয়তো ধারণাও ছিল না, একটা প্রেম ভাঙার ঘটনাই আচমকা বিষয়টিকে প্রকাশ্যে এনে ফেলবে।
আসলে ঋতুজা ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রটি তাঁর প্রেমিক গৌরব পাটিলের সঙ্গে শেয়ার করেন বলে দাবি পুলিশের। ২২ মার্চ হওয়া পরীক্ষায় ঋতুজা উত্তীর্ণ হলেও গৌরব পারেননি। এরপরই দু'জনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এবং তারই জেরে শেষপর্যন্ত তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যায়। গৌরবের আশঙ্কা হয়, প্রেমিকা সরকারি চাকরি পেলে তাঁকে অনায়াসে ত্যাগ করবে। আর এরপরই তিনি নাকি এমপিএসসি-র কাছে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে তিনি অভিযোগটি তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল। ধীরে ধীরে পুরো বিষয়টাই প্রকাশ্যে চলে আসে। দাবি, বিশেষজ্ঞদের তৈরি প্রশ্নব্যাঙ্ক থেকে অবৈধভাবে প্রশ্ন নিয়ে একটি নতুন প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়েছিল এবং তা গোপনে বিক্রি করা হয়েছিল। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি, মহারাষ্ট্র প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা (অসাধু উপায় প্রতিরোধ) আইন, ২০২৪ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৮-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত অভিযুক্তদের ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের মধ্যে ঋতুজার বাবা, গৌরব পাটিলও রয়েছেন।
