হরমুজ বন্ধ। বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা জ্বালানি সংকটের মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বেজেছে। এহেন চরম পরিস্থিতির মাঝেই ভারতের জন্য এল স্বস্তির খবর। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী জ্বালানি গ্যাস বোঝাই একটি জাহাজ হরমুজ পেরিয়ে ভিড়ল গুজরাটের দীনদয়াল বন্দরে। এই জাহাজে রয়েছে ২০ হাজার টন জ্বালানি গ্যাস। সংকটজনক পরিস্থিতির মাঝে এই জ্বালানি গ্যাস যে ভারতের জন্য বড় স্বস্তির তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে গত ৭৫ দিনেরও বেশি সময় ধরে অবরোধ চলছে হরমুজে। ইরান ও আমেরিকার নজর এড়িয়ে এই জলপথে কোনও জাহাজ ঢোকা বা বেরনো কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এই অবস্থাতেই গত ১৩ মে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে আসে জ্বালানি গ্যাস বোঝাই জাহাজটি। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (আইওসি) কাতারের রাস লাফান টার্মিনাল থেকে জাহাজটি নিয়েছে। ২১ জন বিদেশি নাবিক মার্কিন অবরোধ ও ইরানের নজরদারি এড়িয়ে জাহাজটিকে নিরাপদে নিয়ে আসে। এতে রয়েছে ২০০০০ টন এলপিজি।
গত বুধবার হরমুজ পার করার সময় জাহাজটি নিজের রাডার সিস্টেম এবং অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) ট্রান্সপন্ডারগুলো বন্ধ করে দেয়। যার জেরে জাহাজটি কারও নজরে পড়েনি।
জানা যাচ্ছে, গত বুধবার হরমুজ পার করার সময় জাহাজটি নিজের রাডার সিস্টেম এবং অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) ট্রান্সপন্ডারগুলো বন্ধ করে দেয়। যার জেরে জাহাজটি কারও নজরে পড়েনি। সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই সম্পূর্ণ অভিযানটিকে সফল করতে এবং জাহাজটিকে গোলাগুলির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কেন্দ্রের চারটি মন্ত্রকের সমন্বয়ে চলে অভিযানটি। বন্দর, নৌপরিবহন মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব মুকেশ মঙ্গল বলেন, "ডিজি শিপিং, বিদেশমন্ত্রক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয়ের ফলেই এই জাহাজটির নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছতে পেরেছে।"
উল্লেখ্য, মার্চ মাসের শুরু থেকে যাবতীয় সামুদ্রিক বাধা অতিক্রম করে এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত ১৩টি জাহাজ ভারতে এসেছে। এছাড়াও জানা যাচ্ছে, এই জাহাজের ঠিক পিছনে রয়েছে ভিয়েতনামের পতাকাবাহী আরেকটি এলপিজি ট্যাঙ্কার, এনভি সানশাইন, যা ৪৬,৪২৭ টন জ্বালানি নিয়ে নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দরের দিকে যাচ্ছে।
