যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালী (Hormuz Strait) কার্যত বন্ধ করে রেখেছে ইরান। কিন্তু সেই অচলাবস্থার মধ্যেই ভারতের দু'টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে তেহরান। সোমবার গুজরাট উপকূলে পৌঁছেছে গ্যাসবাহী জাহাজ শিবালিক। কোন উপায়ে এই অসাধ্যসাধন হল? বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর জানাচ্ছেন, ভারতীয় কূটনীতির জোরেই হরমুজ প্রণালীতে ছাড়পত্র পেয়েছে ভারতের জাহাজ। তার বিনিময়ে ইরানকে কোনও বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলছে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যুদ্ধ। ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে গোটা বিশ্বের উপর আরও চাপ বাড়িয়ে যাবে তেহরান। তার জেরে গোটা বিশ্বে তেল এবং গ্যাস সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে এমন হুঙ্কার দেওয়া সত্ত্বেও ভারতকে আলাদা ছাড়পত্র দিয়েছে ইরান। ভারতমুখী দুই গ্যাসবাহী জাহাজ শিবালিক এবং নন্দা দেবী শনিবার হরমুজ প্রণালী পার করেছে। সোমবার এলপিজি বোঝাই শিবালিক এসে পৌঁছেছে গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে। ফলে দেশব্যাপী গ্যাসের সংকট কিছুটা কমতে পারে বলেই অনুমান।
আপাতত ভারত-ইরানের আলোচনা সফল হয়েছে। আগামী দিনে হরমুজে আটকে থাকা ভারতীয় জাহাজ চলাচলের জন্যও আলোচনা চলবে বলে জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী।
বিদেশমন্ত্রী বলছেন, ভারতের কূটনীতির জোরেই হরমুজে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে দুই জাহাজ। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে একাধিকবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে কথা বলেছেন জয়শংকর। একটি সাক্ষাৎকারে জয়শংকর বলেন, "আমি এখনও ওঁদের সঙ্গে কথা বলছি। আমাদের আলোচনার কিছুটা ফল মিলেছে। ভারতের যা পরিস্থিতি তাতে আমাদের উচিত পুরো বিষয়টি যুক্তি দিয়ে বিচার করা, আলোচনা করা এবং সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা।" জয়শংকর মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভারতমুখী বহু জাহাজ এখনও হরমুজ এলাকায় আটকে রয়েছে।
ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানের উল্লেখ করে বিদেশমন্ত্রী বলেছেন, "ভারত এবং ইরানের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। সেই ভিত্তিতেই আমরা তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করেছি। কিন্তু জাহাজ চলাচলের অনুমতির বিনিময়ে ইরানকে কিছু দেওয়া হয়নি ভারতের তরফে।" জয়শংকরের মতে, প্রত্যেকটি জাহাজ আলাদা আলাদা ধরে আলোচনা চলছে ইরানের সঙ্গে। আপাতত ভারত-ইরানের আলোচনা সফল হয়েছে। আগামী দিনে হরমুজে আটকে থাকা ভারতীয় জাহাজ চলাচলের জন্যও আলোচনা চলবে বলে জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী।
