২০২৫-২৬ সালে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে গত জুনে সানফ্রান্সিসকো-মুম্বই বিমানের ইঞ্জিনের ত্রুটি এবং তারই পরপর আহমেদাবাদে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এবার নতুন করে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের ত্রুটির কথা উঠে এল ইউরোপের এজেন্সির রিপোর্টে।
সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়ার দুর্ঘটনায় বিস্ফোরক দাবি করেছে মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা। জানানো হয়, আগে থেকেই যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল বিমানে। এবার ইউরোপিয়ান অ্যাভিয়েশন সেফটি এজেন্সি সতর্ক করল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান নিয়ে। দাবি, কারিগরি ত্রুটি তো বটেই। নথি সংক্রান্ত সমস্যাও রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানগুলিতে। ইউরোপের বিমানবন্দরগুলিতে অবস্থানকারী এয়ার ইন্ডিয়ার বিভিন্ন বিমানে এক 'সারপ্রাইজ' পরীক্ষায় এমনই সব ত্রুটি ধরা পড়েছে বলে ওই সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, এয়ার ইন্ডিয়ার ফল্ট রেশিও ১.৯৬! সমস্ত তথ্য ডিজিসিএ-কে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই অনুপাত যদি ২-এর বেশি হয় তাহলে আরও বেশি কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে এয়ার ইন্ডিয়াকে। এমনকী সংস্থার আন্তর্জাতিক উড়ানও বাতিল করা হতে পারে। আপাতত তাই ওই অনুপাতকে ১-এর নিচে নিয়ে যাওয়াটাই চ্যালেঞ্জ এয়ার ইন্ডিয়ার। এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ইউরোপের বিমানবন্দরগুলিতে অবস্থানকারী এয়ার ইন্ডিয়ার বিভিন্ন বিমানে এক 'সারপ্রাইজ' পরীক্ষায় নানা ত্রুটি ধরা পড়েছে বলে ওই সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, এয়ার ইন্ডিয়ার ফল্ট রেশিও ১.৯৬!
আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনা ও ২৬০ জনের মৃত্যুর তদন্তেও সামনে এসেছে বিস্ফোরক তথ্য। আমেরিকার এক তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ওই দুর্ঘটনা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাদের দেওয়াই হয়নি। শুধু তাই নয় তদন্তে নেমে ওই সংস্থার আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন, পাইলটের ভুল নয়, আগে থেকেই বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার জেরেই সেদিন দুর্ঘটনা ঘটে। মার্কিন সংস্থা এভিয়েশন সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রধান এড পিয়ারশন বলেন, বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার সম্পর্কে একাধিক গোপন তথ্য তাদের হাতে এসেছে। যেখানে স্পষ্ট যে ওই বিমানটিতে আগে থেকেই সমস্যা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে শর্ট সার্কিট, ধোঁয়া এবং বিমানের তারে সমস্যা দেখা যাচ্ছিল। এবার ইউরোপিয়ান সংস্থার রিপোর্টে সার্বিক ভাবেই এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠল। এমন দাবিতে যে টাটা গ্রুপের মালিকানাধীন সংস্থা যে বড়সড় অস্বস্তিতে পড়ল তা বলাই বাহুল্য।
