বিবাহিত সম্পর্কে স্ত্রীর সঙ্গে যে কোনও রকমের যৌনতায় লিপ্ত হতে পারেন স্বামী। তা কোনওভাবেই ‘অস্বাভাবিক যৌনতা’ হিসাবে গণ্য হবে না। এবং তার জেরে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করা যাবে না। এমনই অভিমত মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের।
বিবাহবিচ্ছিন্ন এক স্বামী ও তাঁর পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁর বিরুদ্ধে প্রাক্তন স্ত্রীর আনা ‘অস্বাভাবিক যৌনতার’ অভিযোগ নিয়ে। সেই মামলাতেই এই পর্যবেক্ষণ আদালতের। আদালত জানিয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌনতার ক্ষেত্রে মুখমেহন বা পায়ুসঙ্গমের মতো যৌনতাকে কখনওই অস্বাভাবিক যৌনতা হিসাবে দাগিয়ে দেওয়া যাবে না। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী এদিকে অপরাধ হিসাবেও গণ্য করা যায় না।
বিচারপতি মিলিন্দ রমেশ ফাড়কে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অপরাধমুলক আচরণের মামলা খারিজ করে দেন। এটিকে ‘ধর্ষণের’ আওতায় এনে শাস্তি দেওয়ার আর্জিতে সায় দেননি বিচারপতি। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা অনুযায়ী, কোনও মহিলার ইচ্ছার বিরুদ্ধে, তাঁর অনুমতির বিরুদ্ধে ভয় দেখিয়ে কিংবা জোর করে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়াকে ধর্ষণের আওতায় আনার সংজ্ঞা দেওয়া রয়েছে। আদালত জানিয়েছে, ‘ধর্ষণের বিস্তারিত সংজ্ঞায় গিয়ে আইপিসি ৩৭৭ অনুযায়ী মুখমেহন বা পায়ুসঙ্গমের মতো অভিযোগকে ধর্ষণের আওতায় তখন আনা যায় না যখন তা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঘটে থাকে। এবং বিবাহের অংশ হিসাবেই এটিকে দেখা হয়।’
২০১৩ সালের সংশোধিত অপরাধমূলক আইন অনুযায়ী আগে যে আচরণগুলি অস্বাভাবিক যৌনতার আওতায় ফেলা হত এখন তাতে পরিবর্তন এসেছে। এবং এটিকে অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হবে না বলেই অভিমত আদালতের। ভারতে বৈবাহিক সম্পর্কে ধর্ষণের সংজ্ঞা গ্রাহ্য নয়। সেই ক্ষেত্রে আদালতের এহেন নির্দেশে অবশ্য অবাক নন অনেকেই।
