মহারাষ্ট্রে হচ্ছেটা কী! মুম্বইয়ের মেয়র পদ নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই নয়া সমীকরণ তৈরি হয়ে গেল কল্যাণ ডম্বিভলি পুরসভায়। বিজেপি যাতে মেয়র পদ দখল করতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে বিরোধী শিবিরে থাকা রাজ ঠাকরের সঙ্গে হাত মেলাতে পিছপা হলেন না উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডে। আবার রাজ ঠাকরেও ভাই উদ্ধবকে ছেড়ে তাঁর 'মহাশত্রু' শিণ্ডের হাত ধরলেন। যদিও দুই দলই উন্নয়নের দোহাই দিচ্ছে।
একটু খোলসা করে বলা যাক। সদ্য বৃহন্মুম্বই-সহ মহারাষ্ট্রের যে ২৯টি পুরসভায় নির্বাচন হয়েছিল সেগুলির মধ্যে অন্যতম কল্যাণ ডম্বিভলি। এই কল্যাণ এলাকা শিণ্ডে সেনার গড় হিসাবে পরিচিত। একনাথ শিণ্ডের ছেলে শ্রীকান্ত এই এলাকার সাংসদ। পুরসভায় এখানে বিজেপি এবং শিণ্ডে সেনা একসঙ্গেই লড়েছে। ব্যাপক সাফল্যও এসেছে। মোট ১২২ আসনের মধ্যে শিণ্ডের শিব সেনা ৫৩ আসন জিতেছে। বিজেপি জিতেছে ৫০ আসন। উদ্ধব ঠাকরের শিব সেনা বিরোধী হিসাবে উঠে এসেছে। তাঁদের দখলে গিয়েছে ১১ আসন। ৫টি আসন জিতেছে এমএনএস।
এখনও মেয়র নির্বাচন হয়নি। কিন্তু মহাজুটির অন্দরে অঘোষিতভাবে ঠিক হয়েছে মেয়র নির্বাচনে যাঁদের প্রার্থী জয়ী হবেন, তাঁরাই মেয়র পদ পাবেন। মেয়র পদ নিয়ে যদি শেষপর্যন্ত ভোটাভুটি হয়, তাহলে কর্পোরেটর ভাঙাতে পারে বিজেপি, সে আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই আগেভাগে শক্তি আরও খানিকটা বাড়িয়ে নিতে চাইছিল একনাথ শিণ্ডে শিবির। সেকারণেই এমএনএসের পাঁচ কর্পোরেটরকে দলে যোগদান করালেন শিণ্ডে সেনার সাংসদ শ্রীকান্ত। এমএনএসের স্থানীয় নেতারা বলছেন, দলের অনুমতি নিয়েই শিণ্ডে সেনার সঙ্গে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। কল্যাণের উন্নয়নের স্বার্থে এটা জরুরি সিদ্ধান্ত। এমএনএসের কর্পোরেটরদের যোগদানের ফলে কল্যাণে শিণ্ডের সেনার শক্তি বেড়ে দাঁড়াল ৫৮। ম্যাজিক ফিগার ৬২। এর ফলে মেয়র পদ দখল করতে খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা নয় তাঁদের।
অবশ্য অনেক কিছু নির্ভর করছে মুম্বইয়ের সমীকরণের উপর। বিএমসিতে এই মুহূর্তে মেয়র পদ নিয়ে দড়ি টানাটানি চলছে শিণ্ডে সেনা এবং বিজেপির মধ্যে। শেষমেশ যদি শিণ্ডে সেনা মুম্বইয়ের মেয়র পদে বিজেপির প্রার্থীকে মেনে নেয়, তাহলে কল্যাণ এবং নাসিকে বিনা প্রতিন্দ্বন্দ্বিতাতেই মেয়র পদ পেতে পারেন একনাথ শিণ্ডে। সেক্ষেত্রে ভোটাভুটির প্রয়োজন পড়বে না। তবে একনাথ শিণ্ডে এমএনএসের সঙ্গে জোট গড়ে বিজেপিকেও বার্তা দিয়ে দিলেন, প্রয়োজনে অন্য বিকল্পও রয়েছে তাঁর হাতে।
