বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মর্মান্তিক মৃত্যুর ক্ষত এখনও টাটকা। এরইমাঝে ফের দুর্ঘটনার কবলে ফড়ণবিস ক্যাবিনেটের মন্ত্রী ছগন ভুজবল। রাস্তা ভুলে নির্ধারিত হেলিপ্যাডের পরিবর্তে অনেকটা দূরে এক পার্কিং এলাকায় অবতরণ করল তাঁর হেলিকপ্টার। যার জেরে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন মন্ত্রীমশাই। শনিবার এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, সমাজসংস্কারক মহাত্মা জ্যোতিবা ফুলের ২০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে শনিবার সকালে পুণে যাচ্ছিলেন ভুজবল। সেই সময়েই এই ঘটনা ঘটে। কপালজোরে রক্ষা পেয়ে নিজেই এই তথ্য প্রকাশ্যে আনেন ভুজবল। তিনি বলেন, 'আমার পাইলট হেলিপ্যাডের বদলে ভুল করে এক পার্কিং লটে অবতরণ করেছে। যদিও এই ঘটনায় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আমরা সকলেই সুস্থ আছি।' এদিকে পুণে গ্রামীণ পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, এই ঘটনার আমরা অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রককে রিপোর্ট পেশ করব। পাইলটের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করা হবে। এমন গুরুতর ঘটনার পরও ওই হেলিকপ্টার পরিচালন সংস্থা তরফে এখনও কোনও বিবৃতি সামনে আসেনি।
মন্ত্রী বলেন, 'আমার পাইলট হেলিপ্যাডের বদলে ভুল করে এক পার্কিং লটে অবতরণ করেছে। যদিও এই ঘটনায় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আমরা সকলেই সুস্থ আছি।'
উল্লেখ্য, যখনই কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় হেলিকপ্টার অবতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তার অনেক আগেই স্থানীয় পূর্ত বিভাগের তরফে নির্দিষ্ট ওই জায়গার অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ জানিয়ে দেওয়া হয়। যাতে নির্দিষ্ট জায়গায় অবতরণ করতে পারে কপ্টারটি। সেইমতো পুণের জেলা পুলিশের তরফে একটি হেলিপ্যাডও প্রস্তুত করে রাখা হয়। তবে সব হিসেব লণ্ডভণ্ড করে নির্ধারিত জায়গার চেয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পার্কিং লটে অবতরণ করে কপ্টারটি। এই ঘটনায় বিরাট ধুলোয় ঢেকে যায় গোটা এলাকা।
এদিকে এই ঘটনা উসকে দিয়েছে গত ২৬ জানুয়ারি বারামতি বিমান দুর্ঘটনার স্মৃতি। যে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল মৃত্যু হয়েছিল তৎকালীন উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার-সহ মোট ৫জনের। বারামতিতে এক জনসভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন পাওয়ার। অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভয়ংকর বিস্ফোরণ হয় বিমানটিতে। ঘটনার তদন্তে সামনে আসে বিমান কর্তৃপক্ষের একাধিক গাফিলতি।
