শনিবার লালকেল্লা থেকে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখে বারবার শোনা গিয়েছে 'বিকশিত ভারত'-এর কথা। আর সেই নতুন ভারত গড়ার মূল ভিত্তিই যে যুবসমাজ, সেকথাও জানিয়ে দিলেন তিনি। ঘোষণা করলেন, ১ কোটি যুবক-যুবতীকে আগামী এক বছরের মধ্যে এআইয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দেওয়া হবে বিনামূল্যে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কোচিংও। দেশের যুবসমাজকে বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন, তিনি সর্বতোভাবেই তরুণ প্রজন্ম তথা জেন জি-র পাশে রয়েছেন। তরুণ সমাজকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি।
এদিন মোদি বলেন, "বিকশিত ভারতের মূল ভিত্তি আমাদের যুবসমাজ। দেশে আড়াই লক্ষের বেশি স্টার্টআপ। স্টার্টআপের গড় আয়ু ২৮ বছর। ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় ডেটা যুবসমাজকে শক্তিশালী করেছে। নিজের স্বপ্নপূরণে এগিয়ে যাক তরুণরা। স্কিল ইন্ডিয়া, খেলো ইন্ডিয়া হয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতিতে বদল আনা হয়েছে। ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালে তিনশোরও কম বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। গত ১০-১২ বছরে ৬০০-র বেশি হয়ে গিয়েছে। নতুন নতুন আয়ের রাস্তা খুলেছে। আগামী এক বছরে এক কোটি যুবক-যুবতীকে এআই নিয়ে প্রশিক্ষণের বন্দোবস্ত করা হবে।" তিনি জানান, শিগগিরি এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রকল্প চালু করা হবে। সেই সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের যুব সমাজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও তাদের পরিবারগুলির অর্থ সাশ্রয় করতে বিনামূল্যে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কোচিং পরিষেবা চালু করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "উন্নত ও বিকশিত ভারত গড়ে তোলার এই যাত্রায় যুবদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিকশিত ভারতের সবচেয়ে বড় সুফলও ভোগ করবে আমাদের এই তরুণ সমাজ। বিকশিত ভারতের স্বপ্ন ও লক্ষ্যকে সরাসরি যুবকদের সঙ্গে যুক্ত করেই আমাদের এগোতে হবে।"
নিট বিক্ষোভের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী জেন জি-র মন পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাদের উদ্দেশে একাধিকবার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। নতুন প্রজন্মকে তাঁদেরই মতো করে দেশের প্রতি দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন মোদি। নিট প্রশ্নফাঁসে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়ে মধ্যরাতে বেশ কয়েকটি ভিডিও পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। তরুণ সমাজকে ‘ফ্রেন্ডস’ বলে অভিহিত করেন তিনি। সেই ভিডিওগুলি হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে। সমাজমাধ্যমে বেড়ে যায় প্রধানমন্ত্রীর ফলোয়ার সংখ্যাও। এদিন লালকেল্লা থেকেও দেশের যুবাদের জন্য মোদির ঘোষণা বুঝিয়ে দিল, তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে নিজের সংযোগকে আরও শক্তিশালী করতে চান তিনি।
