‘বন্দে মাতরম’ বাজলেও এবার উঠে দাঁড়িয়ে গানের প্রতি সম্মান জানাতে হবে। বুধবার এই মর্মে একটি নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। কিন্তু কেন্দ্রের এই নির্দেশিকার বিরোধিতা করল ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড’ (এআইএমপিএলবি)। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এধরনের নির্দেশ অসাংবিধানিক এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের পরিপন্থী।
মুসলিম ল বোর্ড একটি বিবৃতিতে লিখেছে, ‘এই নির্দেশিকা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সঙ্গে বিরুদ্ধে। এটি সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে।’ তাদের যুক্তি, গানটিতে দুর্গা এবং অন্যান্য দেবদেবীর পুজোর উল্লেখ রয়েছে, যা ইসলামী বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা আরও জানিয়েছে, মুসলিমরা এক ঈশ্বরেই বিশ্বাসী। তা হল আল্লা। বোর্ডের দাবি, গানের বেশ কয়েকটি পংক্তি ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের পরিপন্থী। কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, কেন্দ্র সরকার এই নির্দেশিকা প্রত্যাহার না করে, তাহলে তারা আদালতের দ্বারস্থ হবে।
ঠিক কী রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশিকায়? বলা হয়েছে, সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠানে, সব স্কুলে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ পরিবেশনের পরই বাজাতে হবে ‘বন্দে মাতরম’। যে অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি উপস্থিতি থাকেন সেখানে তিনি আসা ও যাওয়ার সময় পরিবেশন করতে হবে এই গান। এই গান বাজাতে হবে পদ্ম পুরস্কারের মতো অসামরিক তথা নাগরিক সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানেও। যদিও সিনেমা হলে এই গান বাজানো বাধ্যতামূলক নয় বলেই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে।
নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এবার ‘বন্দে মাতরম’-এর ছ'টি স্তবকই পরিবেশন করতে হবে। উল্লেখ্য, ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস আমলে গানটির চারটি স্তবক বাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত? জানা যাচ্ছে, নাগরিকদের মধ্যে দেশপ্রেম বোধ জাগাতে এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ করতেই এই পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র।
