শুধু ভারতের নন। ব্রিটেনেরও নাগরিক লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এই অভিযোগ তুলে মামলা ঠুকেছিলেন ভিগ্নেশ শিশির নামের এক বিজেপি নেতা। বুধবার সেই আর্জি খারিজ করে দিল লখনউয়ের বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালত। সেই সঙ্গে মামলাকারীকে মৃদু তিরস্কারও করলেন বিচারক।
বিজেপি নেতা ভিগ্নেশ শিশির অভিযোগ দাবি করেন, রাহুল গান্ধী যে শুধু ভারতের নাগরিক নন, তার যথেষ্ট প্রমাণ তাঁর হাতে রয়েছে। ওই বিজেপি নেতা আদালতে দাবি করেছেন, রাহুলের নাগরিকত্ব নিয়ে তথ্য জানতে তিনি ব্রিটেনের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কিছু তথ্য তাঁরা দিয়েছেন। তবে সব তথ্য গোপনীয়তার খাতিরে দেয়নি। এ বিষয়ে সিবিআই তদন্ত হওয়া উচিত। কেন্দ্রেরও উচিত, এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা।
লখনউয়ের বিশেষ সাংসদ-বিধায়ক আদালতে মামলাটি চলছিল। অভিযোগটি প্রথমে রায়বরেলির বিশেষ সাংসদ-বিধায়ক আদালতে দায়ের করা হয়েছিল। পরে মামলাকারীর নিরাপত্তার কথা ভেবে মামলাটি এলাহাবাদ হাই কোর্ট লখনউয়ে স্থানান্তরিত করে। গত ১৪ জানুয়ারি টানা আটদিনের শুনানি শেষ করেন বিচারক অলোক বর্মা। রায়দান সংরক্ষিত রেখেছিলেন তিনি। বুধবার ওই বিশেষ আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন। বিচারক অলোক বর্মা একপ্রকার তিরস্কারের সুরেই বলেছেন, ‘‘নাগরিকত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এই আদালতের নেই। এই মামলা আসলে আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার ছাড়া কিছু নয়।’’ দিন কয়েক আগে এলাহাবাদ হাই কোর্টও রাহুলের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে একটি মামলা খারিজ করে দেয়।
বিচারক অলোক বর্মা একপ্রকার তিরস্কারের সুরেই বলেছেন, ‘‘নাগরিকত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এই আদালতের নেই। এই মামলা আসলে আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার ছাড়া কিছু নয়।’’
রাহুল গান্ধীর নাগরিকত্ব নিয়ে এর আগেও একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে দিল্লি হাই কোর্টে এই একই অভিযোগে মামলার করেছেন বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। স্বামীর দাবি ছিল, ব্রিটিশ সংস্থা ব্যাকপ্স লিমিটেডের মাধ্যমে ২০০৫ এবং ২০০৬ সালে রাহুলের দাখিল করা বার্ষিক রিটার্ন সংক্রান্ত নথিগুলি তাঁর ব্রিটেনের নাগরিকত্বের প্রমাণ। এছাড়া ইংল্যান্ডে রাহুলের নামে থাকা একটি কোম্পানির ঘোষণাপত্রে, নিজেকে ইংল্যান্ডের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। রাহুল ব্রিটেনের নাগরিক, এই অভিযোগ তুলে তাঁর মনোনয়ন খারিজের দাবিও একাধিকবার উঠেছে। ঘটনাচক্রে বিজেপি নেতারা এর আগে বারবার রাহুল গান্ধীকে বিদেশের নাগরিক হিসাবে প্রমাণ করার চেষ্টা করলেও কেন্দ্র সেভাবে উচ্চবাচ্চ করেনি। প্রতিবারই রাহুলের নাগরিকত্ব ইস্যুটি কোনও না কোনওভাবে এড়িয়ে গিয়েছে মোদি সরকার।
