নয়ের দশকে একটি হেল্থড্রিঙ্কের বিজ্ঞাপনের ট্যাগলাইন ছিল 'দেখো আমি বাড়ছি...'। ভারতীয় অর্থনীতি সম্পর্কেও কি এই ট্যাগলাইন খাটে? কেন্দ্রের অর্থিক সমীক্ষা ২০২৫-’২৬-এ তেমনটাই দাবি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবর্ষে (২০২৫-’২৬) ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপির (গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট) সম্ভাব্য হার ৬.৮ শতাংশ থেকে ৭.৪ শতাংশের মধ্যে থাকবে। গত আর্থিক বছরে (২০২৪-’২৫) যা সাড়ে ছ’শতাংশে আটকে ছিল। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের বাজেট ঘোষণার আগেভাগে কেন্দ্রের এই সমীক্ষা রিপোর্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
কেন্দ্রের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরণের নেতৃত্ব অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-’২৬ সম্পূর্ণ হয়েছে। ইতিমধ্যে সেই রিপোর্ট পৌঁছে গিয়েছে নির্মলা সীতারমণের টেবিলে। ওই রিপোর্টে উৎপাদন এবং পরিষেবা খাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। পরিষেবার মধ্যে অন্যতম এপ্রিল থেকে কার্যকর সরলীকৃত প্রত্যক্ষ কর আইন, এফডিআই এবং দেউলিয়া বিধিমালার সংস্কার ইত্যাদি। আইএমএফ (৭.৩%) এবং বিশ্বব্যাংক (৭.২%) অনুমানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কেন্দ্রের আর্থিক উপদেষ্টা কমিটির রিপোর্ট। সেখানে ৭.৪ শতাংশ জিডিপির কথা বলা হয়েছে। যদিও বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য উত্তেজনা, কঠোর মার্কিন শুল্কনীতির জেরে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধি ৬.৫% বা ৬.৫% শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে যথাক্রমে আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাঙ্ক।
কেন্দ্রের অনুমান, বর্তমান মূল্যে জিডিপি (নমিনাল জিডিপি) আট শতাংশে ছুঁয়ে ফেলবে।
কেন্দ্রের অনুমান, বর্তমান মূল্যে জিডিপি (নমিনাল জিডিপি) আট শতাংশে ছুঁয়ে ফেলবে। বছরের শুরতেই মন্ত্রকের তরফে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, স্থির মূল্য জিডিপি বা প্রকৃত জিডিপি ২০২৫-’২৬ আর্থিক বছরে ২০১.৯ লক্ষ কোটি টাকার আশপাশে থাকতে পারে। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে এর অঙ্ক ছিল ১৮৭.৯৭ লক্ষ কোটি টাকা।
প্রসঙ্গত, প্রতি বছরের মতোই ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট ঘোষণা করবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। এমনিতে যে কোনও সরকারের প্রথম বা দ্বিতীয় বাজেটে সেভাবে চমক থাকে না। এই বাজেটগুলি হয় মূলত সংস্কারমুখী। কারণ ভোটের চাপ থাকে না। তবে ২০২৬-এর বিষয়টি আলাদা। কারণ এবার বাজেটের মাস খানেকের মধ্যে পাঁচ রাজ্যের ভোটের বিউগল বাজবে। ফলে এবার সংস্কারের পাশাপাশি নির্মলা সীতারমণের বাজেট জনমোহিনী হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
